প্রবাসী ছন্দে বিপুল বিহারী হালদার (রোম, ইতালী)

চার স্তম্ভ
এই বঙ্গে নাই যাদের চালচুলো,নাই টাকে বিন্দু চুল,
তারাই নাকি এ বঙ্গ কাননেই ফোটাবে সুগন্ধি ফুল।
ব্যাকুল হয়ে কূল খুঁজছে ওই অর্বাচীন সদলবলে,
নতজানু হয়ে নাক খত দিচ্ছে ওই পদ্ম ছত্র তলে।
পদ্মের অপর নাম শতদল,নানান রূপের নানান ছল,
আমজনতা দিশেহারা পাচ্ছেনা খুঁজে তৃণ,পদ্মের তল।
কে ওই সত্যি-মিথ্যে কে যে কখন ফুটাবে বিষাক্ত হুল,
ধন্দে মানুষ কোনটা সত্যি!কোনটা যে মিথ্যের বড় গুল।
ধান কাটার কাস্তে জং ধরেছে হচ্ছেনা ভালো শান,
শান দিয়ে উঠলে জোয়ান,হয়ত কিছু বাঁচাতো প্রাণ।
কি হচ্ছে তথৈবচ রাজ অঙ্গনে বোঝা ভীষণ ভার,
জয় পরাজয়ের খেলা চলছে হইতে বৈতরণী পার?
‘বন্দে মাতরম্’ যাদের ছিলো বাণী মাতৃভূমি রক্ষায়,
তাঁরাও আজ খাচ্ছে হাবুডুবু তাদের এতো দুঃসময়।
ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দিচ্ছে ঐক্যের ডাক মহা বীর,
ঐক্যে আমন্ত্রণ করল যাদের,সবাই চতুর ফকির।
স্বদেশের চার স্তম্ভের মতিভ্রমে দেশ যাচ্ছে রসাতল,
পরাধীন থেকে স্বাধীন,স্বাধীনতাই হইল মৃত্যুর কল?
তাজা রক্তের বিনিময়ে তেরঙ্গা উড়াইতে স্বদেশীরাই
দিয়েছিল আত্মবলিদান!
ধিক্ ধিক্ ধিক্কার এই স্বাধীনতার জন্যই কী দিয়েছিল
স্বদেশী ক্ষুদিরামেরা প্রাণ?