কবিতায় বিপুল বিহারী হালদার (রোম ইতালী)

অপরাহ্নের মাশুল
নিরন্তর যেন ঝড়েযাচ্ছে রুধির শরীর থেকেই
দুর্বল হয়ে যাচ্ছে শিরা উপশিরা
অকেজো হয়ে যাচ্ছে অঙ্গের সচল স্থান গুলি
পাক ধরে যাচ্ছে উর্বর চুল,গোঁফে।
সময় যাচ্ছে কমে পলে পলে আয়ু থেকেই
দৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে ধূসর,আবছায়া-
অশনি সংকেত দিচ্ছে!সময়ের হৃৎপিন্ড ঘড়িতে
বদ হজমে কষ্ট পাচ্ছে উদর,বুক,পায়ু!
বহুমূত্রে ভিজে যাচ্ছে অনর্গল অন্তর্বাস অবচেতনে
কঠিন পুরীষ জমছে উদর মলাশয়!
ত্বক কুচকে ঢলে পরছে,কপোল ভেঙ্গে হচ্ছে টিলা
টুঁটি বেড়িয়ে আসছে সরু হচ্ছে গলা।
শিরায় শিরায় পা থেকে-ঘাড় যন্ত্রণার উপক্রম
বেঁকে যাচ্ছে ধনুকের মত মেরুদণ্ড-
ঘাড় বেঁকিয়ে বলতে হচ্ছে কথা,স্বজনের সাথে
কাছে নেই কেউ খেতে হচ্ছে বাসি-পচা!
প্রলেপ পড়ে যাচ্ছে পানপাত্রে,ভোজন থালায়
স্নানাগারে জমছে শেওলার মোটা চড়া-
অকেজো এ শরীরে,নড়বড়ে হচ্ছে হাড়ের সংযোগ
সামর্থ্য নেই নড়েচড়ে কিছু করার!
আজ ভাবছি সেই দিনের ভুলটা ছিল বড়ই ভুল
আষ্টেপৃষ্ঠে বুঝিয়ে দিচ্ছে আমাকে সময়!
ক্রধের বশীভূতের,সেই সিদ্ধান্তই ছিল হঠকারিতা
যৌবনের মতিভ্রমের সাজাটা ভুগছি এ প্রৌঢ়ে।
ভাঙল যখন তীব্র লালসার দম্ভ-অহংকারের ভুল
অপরাহ্নে সুদ আসলের মাশুল গুনলেও
ফুটবেনা আর জীবন বাগানে অতীতের সেই ফুল।