কবিতায় বীথিকা ভট্টাচার্য

খুশির নবান্ন
ছাতিম ফুলের মিষ্টি সুবাস মেখে, আলতো রোদের শিশির ভেজা স্নান,
হিমেল হাওয়ার স্পর্শ অনুভবে, জানিয়ে গেলো, এসেছে অঘ্রাণ।
শিশির ঝরে মাটির ঘাসের পরে, অঘ্রাণে আজ কাশফুলও ম্রিয়মান,
ক্ষেতের পরে চাষীর মধুর হাসি, মাটির সুরে ফসল কাটার গান।
মাঠের বুকে হলুদ রোদের সুখে, প্রাণ পেয়েছে নতুন ধানের ঘ্রাণ,
অঘ্রাণে হবে নবান্ন উৎসব, হেমন্তে তাই উচ্ছ্বাসে মেতে প্রাণ।
সোনা রোদের উছলে পড়া খুশী, পূর্ণ গোলায় উপচে পড়া ধান,
পাকা ধানের ক্ষেত, প্রান্তর জুড়ে, অবাধ রোপণ লক্ষ্মীর ভরা দান।
সুপ্ত আশা প্রাণ পেয়েছে আজ, ফসল কাটা ধানের ক্ষেতের পরে,
মঙ্গল দীপ জ্বলছে আকাশ পরে, শ্যামা পুজোয় প্রদীপ ঘরে ঘরে,
ভাইফোঁটা আর দেওয়ালীর উৎসবে হিমেল খুশী দিগন্ত জুড়ে নীল,
অনুভবে আর আত্মিক বন্ধনে, অটুট মিলন অন্বয় অনাবিল।
ঝাড়াই মাড়াইয়ে কাটছে বেলা কত, ব্যস্ত সবাই ফসল কাটার ধূম,
নিকানো উঠোনে আল্পনা দেয় মেয়ে, কোমল হাতে চালের গুঁড়োর চুম।
পল্লীবধূ আলতা রাঙা পায়ে, পুকুর ঘাটে কলসীতে জল ভরে,
ধান, দূর্বা, চন্দন, ঘি, মধু, ফুল, বেলপাতা আয়োজনে উপাচারে,
খেজুরি গুড়ের উষ্ণ সুবাস ভরে, বইছে বাতাস চিত্তে লাগে দোল।
নতুন চালের পায়েস, পিঠে, ভাত, খুশির পরব আনন্দ উতোরোল।
গ্রাম বাংলার হাসি মাখা মুখগুলো, হেমন্তে আজ প্রশান্ত ঘন চিতে, সারা বছরের রুটিরুজির রসদ, যোগাড় করে রক্ত ও ঘামে ভিজে। রোদ্দুর রাঙা আলোর ঝর্ণা ধারায়, ভিজিয়ে চিত্ত মন ছোঁয়া উচ্ছ্বাসে।
হঠাৎ করেই ফুরিয়ে গেল বেলা, ভোরের বাতাসে, শীতের পরশ আসে।