কবিতায় বিশ্বরূপা ব্যানার্জী

ব্যর্থ প্রেমিক
ক্লাস ইলেভেন,
জীবনে প্রথম প্রেমে পড়লাম।
কিন্তু বলব কি করে?
প্রায়শই অ্যাবসেন্ট করা ছেলেটা,
রেগুলার স্কুলে আসা শুরু করল।
নিজেকে স্মার্ট প্রমাণিত করার আপ্রাণ চেষ্টা।
ব্যাকবেঞ্চার থেকে ফাস্ট বেঞ্চার,
নাম্বারের পার্সেন্টেজও বেড়েছে,
এত কিছুর মাঝেও
বলা হয়ে ওঠেনি
“ভালোবাসি”!!
দেখতে দেখতে একটা বছর কেটে গেল।
ক্লাস টুয়েলভ,
সামনে এইচএস।
বুকে সাহস নিয়ে আর
অভিজ্ঞ বন্ধুদের সহযোগিতায়
একদিন বলেই ফেললাম
“ভালোবাসি”…
বিগত এক বছর ধরে
বেশ বুঝতে পারছিলাম,
তার দিক থেকে একটা টান কাজ করছে।
ধীরে ধীরে সেই টান প্রগাঢ় হল।
একসাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করলাম,
সেম কলেজে ভর্তি ও হলাম।
হঠাৎ বুঝতে পারলাম
সম্পর্কের ছন্দপতন।
পর্নার জীবনে নতুন পুরুষের প্রবেশ!
সব জেনে বুঝে
যখন আমি সরে আসলাম,
কলেজের নতুন বন্ধুরা
পরিচয় করালো নিকোটিনের সাথে।
সময়টা ভালোই কাটছিল।
স্কুলের ভদ্র সভ্য ছেলেটি
আজ নিকোটিনে আসক্ত।
বড় বড় চুল, এক গাল দাড়ি,
এক কথায় লোফার।
আমার তখন সেকেন্ড ইয়ার,
ইতিমধ্যে দরজায় প্রেম কড়া নাড়া দিল।
একটু অপ্রত্যাশিতভাবেই যেন এলো
মানিয়ে নিল আমার সব এলোমেলো।
নিকোটিন কে বিদায় দিয়ে,
নিজেকে ভদ্রস্থ করে তুললাম।
বাবা-মাও যেন আজ বড্ড খুশি।
কিন্তু এই খুশিও না, দীর্ঘস্থায়ী হলো না।
ফার্স্ট ইয়ারে কলেজের সোশ্যাল এ
রিকি যেদিন গীটার হাতে স্টেজে,
পারফর্ম করতে উঠলো,
নাটুকে প্রেমিকা তমা
আমার হাত ছাড়লো।।
তারপর থেকে জীবনে
আর কখনো প্রেমে পড়িনি।
কারো মায়ায় জড়াইনি।
একাই আছি।
এখন সম্বল বলতে
হুইল চেয়ার আর মোটা পেনশন,
নিজেকে দেখভালের জন্য একজন কেয়ারটেকার।
তবুও আজকাল যখন বেরোই ,
কত ব্রেকআপ-প্রেমের গল্প শুনি,
আজও বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে ওঠে।
আজ মনে হয়
হয়তো ভুল করেছি ,
একাকীত্ব জীবনেও কোন একজনকে দরকার।
আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর দরকার
বন্ডিং এর দরকার
তেমন স্যাক্রিফাইসেরও দরকার।