কবিতায় বিশ্বরূপা ব্যানার্জী

বুকের বাঁ পাশটা বড্ড ব্যাথা করছে
সেমন্তী,
ভালো আছো?
জানোতো কদিন ধরে বুকের বাঁ পাশটা
চিন্ চিন্ করে ব্যাথা করে।
এইতো হঠাৎ সে দিন মাথা টাও ঘুরে গেছিল।
তুমি এখন কি করছো?
খুউব ব্যস্ত বলো?
আমার কষ্ট কাকে আর বলব বলো?
তুমি তো শুনলে না তাই চিঠিবদ্ধ করে রাখছি,
যদি কখনো তুমি পরো, জানতে পারবে।
রমলার মা সেদিন বলছিল জানো,
আমার নাকি বড্ড জেদ হয়েছে।
সময় মতো ওষুধ, খাবার খাই না।
তাই আমিও জবাব দিয়েই দিয়েছি,
আমার রান্না আমি করে নেবো।
দুদিন হলো নিজেই করছি সব।
খাবার বলতে ওই
অফিস থেকে ফেরার পথে দুখানা রুটি,
আর দুপুরে সহকর্মী দের ভাগের খাবার,
এটুকুই জোটে এখন।
সেমন্তী,
তুমি খেয়েছো তো?
এখন বুঝি ভালো ঘুম হয় তোমার?
কিন্তু আমার যে ভয় হয়, অজানা ভয়।
দিন দিন তো বয়স টা বাড়ছে নাকি?
জানো সেদিন একটা স্বপ্ন দেখলাম।
আমাদের আবার দেখা হয়েছে
পঁচিশ বছর আগের সেই অদ্ভুত অনুভূতি।
আচ্ছা আমি যে তোমার জন্য
রোজ গোলাপ আর চকোলেট পাঠাই
রামু দেয় তো সেগুলো তোমাকে?
তুমি বলতে ছাতিম ফুলের গন্ধ
তোমার খুব ভালো লাগে।
পঁচিশ বছর তো ওই ছাতিম গাছের নিচেই আছো,
গন্ধটাকি একই রকম আছে?
সেমন্তী,
তোমার নিজেকে একা লাগে না তাই না?
তাই নিভৃতে থাকতে পারো।
তবে খুব তাডাতাড়িই হয়তো আমি
যাবো তোমার কাছে।
কারণ বুকের বাঁ পাশটা বড্ড ব্যাথা করছে।।