কবিতায় বীথিকা ভট্টাচার্য

অন্নদাতা
ওই যে সবুজ ঘাসের পরে, ভোরের শিশির ঝরা,
চলতে পথে ছড়িয়ে থাকা, ধুলোর চাদর মোড়া।
মাটির সাথে জীবন যাদের মাটির ঘরেই বাস,
অভাব যাদের নিত্য সাথী, দুঃখ বারো মাস।
নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তবুও মনকে বাঁধে,
কৃষক ওরা পরিশ্রমের লাঙল ওদের কাঁধে।
ক্ষেতের ‘পরে ফসল ফলায়, সারাটা দিন খাটে,
হাড়ভাঙা শ্রম, নিত্য লড়াই একমুঠো ডালভাতে।
হেমন্তে হয় অবাধ রোপণ, মাঠের পাকা ধান,
ঠোঁটের কোণে চিলতে হাসি, দুঃখ ভোলার গান।
রোপণ করে আবাদ করে, ফসল তোলে ঘরে,
কিষাণীরাও কোমর বেঁধে একসাথে কাজ করে।
খড়ের আটি পরিপাটি সাজিয়ে পাটে পাটে,
ক্লান্ত দেহে ফেরে গেহে, পথ চলে এক সাথে।
মাথায় করে নিয়ে ফেরে, খড়ের আঁটির গাদা,
সহজ সরল গ্রাম্য জীবন, একই ছাঁচে বাঁধা।
হাল ধরে আর লাঙল চালায় মাটির পরে চাষ,
ওদের শ্রমেই মোদের হাসি, খুশীর বারো মাস।
ঝরা শ্রাবণ, অকাল প্লাবন, ফসল নষ্ট মাঠে,
আকুল করা চোখের জলে, কষ্টেতে বুক বাঁধে
বিরূপ যখন ভাগ্য তাদের, বিধি যখন বাম,
ধৈর্য্য তাদের ভরসা যোগায়, জপে ইষ্ট নাম।
পায়ে পায়ে দুঃখ ওদের, শক্তি যোগায় বল।
গরীব চাষীর করুণ চোখে উপচে পড়া জল।