T3 || স্বাধীনতার খোঁজে || বিশেষ সংখ্যায় বসুধা বসু

স্বাধীনতার স্বাদ

এখানকার নিয়মের সাথে রোশনি এখনও মানিয়ে উঠতে পারেনি। সকাল ৫টায় উঠে সারাদিন বাগানের কাজ করা, মাঝে শুধু দুপুর আর রাতের খাওয়া। তবে বেশ মন দিয়ে হাসি খুশি মেজাজে কাজ করে। বাকিদের কাছে তা বেশ অবাকের। নিজের মনে গুন গুন করে গান গায়। মাঝে মাঝে বাগানের পাখিদের সাথে কথা বলে। ১৫ই আগষ্টের এক সপ্তাহ আগে পরিদর্শক এসে সবাইকে বলে গেছে কিছু একটা করতে হবে সেদিন। অবশেষে এল সেইদিন। স্বাধীনতার দিন। দর্শক সারিতে জেলা শাসকসহ বিশিষ্টরা। রোশনির চমৎকার নাচে মুগ্ধ সকলে। অনেকের মনে রোশনিকে দেখে প্রশ্ন এল রোশনির ঠাঁই এখানে কেন….
জেলা শাসক অনুষ্ঠান শেষে জানতে চাইলো যে সে এখানে কি করছে।
উত্তরে রোশনি বলল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে মাস্টার্স, নাচ জানা মেয়েকে মা বাবা বিয়ে দেয় ডাক্তার ছেলের সাথে। নাচ বন্ধ হয়ে যায় চিরতরে। পণের জন্য চাপ। শেষে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জানতে পারে মেয়ের জন্ম দিতে চলেছি, সেদিনই গায়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ি। নিজের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে খুন করি সকলকে। তাই সে এখন আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারে। সকলে চুপ। চোখের কোণের জল মুছে হাসি মুখে রোশনি বলল আমার দুঃখ নেই, আমি তো স্বাধীন পাখি এখানে। স্বাধীনতার জন্যও এরম খুন করতে হয়েছিল বিপ্লবীদের। স্বাধীনতার স্বাদ বড়ই তৃপ্তির।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।