গুচ্ছ কবিতায় বর্ণজিৎ বর্মন

১| রূপ

ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে সুযোগ
বর্ষায় ভেঙে যাওয়া ঠোঁট , পাঁজর, উরু ভরাট হয়ে উঠেছে জলঢাকার জীবন
এই নদীটির তীরে ছিল টাটকা গোলাপের বন্দর -আজ
কোনো দৈবদুর্বিপাকে সন্ধ্যা জড়িয়েছে কপালে
ক্রমশ যন্ত্রণা কমছে এক একটা গোলাপ ফ্যামিলির সদস্যদের,
পাপড়ির রঙের, পা , সুগন্ধের
ফিরতে দেরি নেই ,
আমরা সু যাত্রায় অপেক্ষা করতেই পারি – যৌবন রূপ আসছে ফিরে!
আজ ঔষধের দরজায় দুটি বই
ঘুমিয়েছ ঝাউপাতা আর
যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো
বাঁ পাজরে রাখা

২| গতকাল যা কিছু হয়েছে

তিনজন প্রিয় স্বজন দেখা করছে
তখণ এক নং বেডে শুয়ে নীল রঙের কথা ভাবছিলাম
আর ছয় রঙ বুঝে গেছে
আমি খুব অসুস্থ অস্থির,
প্রতিবেশী যারা শুভাকাঙ্ক্ষী এবং যারা নইব নইব চ
সবার মুখে ঘুরছে ছেলেটার কি হলো ?
সে সৎ ছিল তবু কেন ঈশ্বর
পরীক্ষা নিচ্ছে,
সে দিঘির জলে হাঁসের স্নান দেখে কবিতা লিখত
বাসিফুলের মালা গাঁথা নিয়ে পূজারী মহিলাদের প্রতি
পবিত্রতা সম্পর্কে বোঝাত
মন আর ইচ্ছা সব কিছু স্বচ্ছ ছিল তাঁর
শুনলাম , পাশের বাড়িতে গতকাল সব ভাজা মাছ সুখী নামে বেড়ালটা খেয়েছে
এবার একটু ভিন্ন হাসি মুখে এসে শান্তি বাসা বাঁধে
হৃদয়ে জানলায় একটুরো
সাদা মেঘ দক্ষিন দিকে উড়ে গেল
ঠিক তখণ
মোবাইলটি বেজে ওঠে
ডাক্তারের ফোন –
হ্যাঁ স্যার ডান পায়ের পেইন একটু কম কম লাগছে
হ্যাঁ এছাড়া সব মোটামুটি ঠিক
আর দিন কয়েক লাগবে ,বলে
ফোনটা ডিসকানেক্ট হয়ে যায়,
আস্থা পেলাম , বল ও
আচ্ছা জানেন কি ?
কথার মধ্যে সুস্থ থাকার অনেক নির্যাস লুকিয়ে রাখা

৩| দৃশ্য -৩

এসে গেছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড
প্রেমালাপ জমেছে
উড়ন্ত অদৃশ্য তারে তারে
চাঁদও আজ দেখো ফ্রেসওয়াশ করে গোপন বিউটিপার্লারে
কিউবার ডাসবিনে ফেলে দেয় কলঙ্ক ছাপগুলি
প্রেমিক যদি তালাশ করে পূর্বের
যতিচিহ্নবর্জিত হসন্ত গুলি
-এটা তো রোগ তাদের , প্রতিরোধের মুখে কোনো শব্দ এখনও হয়নি আবিষ্কার
তাই এই মুহুর্তে মেকআপ বক্সে ঢাকাঢাকি
এই সব শোক সবুজ রঙের আলো নিভে দেয় ঘরে
দৃশ্যে দৃশ্যে কত আহত পাখির চোখের জল
জলে মেঘের ছায়া নেমে এলে
গাঢ়তর সন্ধ্যা চোখ ঢেকে রাখে
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।