T3 || কালির আঁচড় পাতা ভরে, কালী মেয়ে এলো ঘরে || লিখেছেন বীথিকা ভট্টাচার্য

হৈমন্তিকা

শিউলি মলিন বিদায় বেলা, কাশফুলও ম্রিয়মান,
সবুজ ঘাসের ডগায় এখন ঘাস ফড়িংয়ের তান।
শুভ্র মেঘের পালক ভাসে না দূর নভোনীল তলে,
হেমন্তেরি মাঠ ভরা ধান, ভাসে শিশিরের জলে।
সোনার রবি সোনা রং ঢেলে, দিগন্তে ঝরে পরে,
হেমন্ত তার দানের ডালি দিয়েছে উজাড় করে।
ভোরের বেলা শীতল বাতাস শিশির ভেজা ঘাস,
পাখীর মধুর কলতান, আর পাকা ধানের সুবাস।
শুষ্ক শাখার মর্মর ধ্বনি, ঝরা পাতা ক্রন্দন,
হিমেল বাতাস আবাহনে গায়, হেমন্ত বন্দন।
নবান্নের উৎসব আসে খুশীতে, আবেগে মেতে,
পল্লী বধূরা ব্যস্ত কাজে, গোলা ভরে, ধান কাটে।
সবুজ ঘাসে শিশির ফোঁটা, কানেকানে কথা কয়,
রিমঝিমঝিম খুশীর নাচন, সোনালী ফসলে রয়।
আকাশ বুকে প্রদীপ জ্বলে, ঘরে ঘরে দীপ জ্বলে,
শ্যামা মায়ের আরাধনা হবে, আনন্দ ধরাতলে।
ফুল পল্লব, ধনে ও ধান্যে, আয়োজনে উপাচারে,
উৎসব জুড়ে বাংলার ঘরে নানাবিধ লোকাচারে।
খেজুরি গুড়ের পিঠে পুলি আর মিষ্টি মনোহরা,
হেমন্ত তার দানে, কল্যাণে, পূর্ণ করেছে ঘড়া।
প্রকৃতি আজ অমলা, অধরা মনোময় রূপে ভরে,
বাংলার মায়ের সুধামাখা রূপ, হেমন্ত রোদ্দুরে।
কাটবে প্রহর স্তব্ধ ‌আবেগ, বিদায় সজল বেলা,
শীতের ভোরে হাওয়া উত্তুরে, শেষ হবে পথচলা।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।