কবিতায় বীথিকা ভট্টাচার্য

শীতের চাদরে

কুয়াশা ধোঁয়াশা মাখা আলটুসী রোদ, আর শীতের সকাল,
আড়মোড়া ভেঙ্গে রোজ সূর্য্যটা ওঠে, ছিঁড়ে কুয়াশার জাল।
আজানের সুর আর ঘন্টার ধ্বনি বাজে একটানা সুরে।
ফুলে ফুলে ভরা শাখে, শীতের কুয়াশা মাখে, মৌমাছি ওড়ে।
বিছানায় গুটিসুটি, চাদরের পরিপাটি, ওমের আদরে।
মায়ের হাতের গড়া, আদর সোহাগে মোড়া, বুনোটী চাদরে।
সূঁচ সূতো দিয়ে গাঁথা, ‌সুচারু নকশী কাঁথা, স্নেহ মমতায়।
আয়েশে লেপের তলে, শীত কাঁথা কম্বলে, উষ্ণতা ‌চায়।
অবিরত শিশিরের টুপটাপ ঝরে পড়া শব্দ মায়ায়,
কনকনে ঠান্ডাতে, আগুন পোহানো তাতে, প্রাণের ছোঁয়ায় ।
চারিদিকে ধোঁয়া ধোঁয়া, কুয়াশার জাল ছাওয়া, আধো আবছায়।
খেজুর রসের হাঁড়ি, কাঁধে নিয়ে বাড়ী বাড়ী, গাছি হেঁকে যায়।
ক্ষেতের নতুন ধান, খেজুরি গুড়ের ঘ্রাণ, পৌষালী শীতে।
স্মৃতির সরণী বেয়ে, মন তবু যায় ধেয়ে, আবেগে অতীতে।
ঘুম থেকে ভোরে উঠে, টিনের বাক্স ঘেঁটে, গরম পোষাক,
মেলে দিয়ে ছাদ জুড়ে, টানটান রোদ্দুরে, ওম ছুঁয়ে থাক।
‌উৎসবে শীত ভোরে, নবান্নে ঘরে ঘরে, খুশী ভরা প্রাণ।
কুয়াশার ঘন ঘোরে, আবছায়া রোদ্দুরে, অনুভবী ঘ্রাণ।
ব্যস্ত পথিক এক, কাঁধে নিয়ে ঝোলা ব্যাগ, হিম মাখা ভোরে।
শীতের চাদর মুড়ে, পায়ে পায়ে হেঁটে চলে, মেঠো পথ ধরে।
মায়ের আদর মাখা, গায়ের চাদর খানা, আজো পিছু ডাকে,,
সকল দুঃখ ভুলে, কুয়াশার হিম জলে, অনুভব মাখে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।