দিব্যি কাব্যিতে বিভাবসু

অবান্ধব এক খেরোখাতা

একে একে সবাই ছেড়ে যায়
কেউ স্বেচ্ছায়
কেউ অনন্যোপায় হয়ে
কেউ ঠাঁই বদলের অছিলায়
কেউ স্বার্থ ফুরানোর জন্য

শেষাবধি কেউই বন্ধু হয়ে থাকে না

একে একে সবাই ছেড়ে যাওয়ার পরে
যে অনিবার্য নৈঃশব্দ্য নেমে আসে চরাচরে
তার মধ্যে আমি নিজেকে আবিষ্কার করি
এক স্বয়ংভূত প্রেতযোনির মতো

আর ঠিক তখনই আমার পাশে উড়ে এসে জুড়ে বসে
সন্তের মতো এক কুচিবক
একটা লেজঝোলা পাখি
কিছু গাঙশালিক
আর অসংখ্য কাক

একটা জেলে নৌকোয় চেপে আসে
এক বর্ণাঢ্য বিকেল

কিন্তু এরাও একসময় আসন্ন রাত্রির দিকে উড়ে যায়

ধীরে ধীরে সবাই যখন ছেড়ে যায়
তারপর যে অনিবার্য একাকিত্বের জন্ম হয়
তার ভেতরে আমি আমার
জন্মান্তরের বিষণ্নতাদের খুঁজে পাই
এই বিষন্নতার মধ্যে জড়িয়ে যায়
হৈমন্তিক সান্ধ্যশিশির
একটা পরিত্যক্ত বাগানবাড়ি
আর টলোমলো একটা নদী

শেষপর্যন্ত কেউই পাশে থাকে না
শেষপর্যন্ত মানুষকে একা হতে হয়

আমাদের প্রকৃত কোনো বান্ধব নেই।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।