“এই শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো” বিশেষ সংখ্যায় বিকাশ আদক
by
TechTouchTalk Admin
·
Published
· Updated
|| বৃষ্টি খুঁজি ||
ঘনঘোর বর্ষা মেঘ জটাজুট —
বেগবতী নদীর ছলাৎছল, শূন্য পথঘাট,
বিজন ঘরে নিস্তব্ধ চারিদিক
অভিমানী জানালায় বিষন্ন মন দূরপানে…..
নীল, তোর মনে পড়ে আজও আমায়?
খুব জানতে ইচ্ছে করে রে, -কেমন আছিস?
দেখতে দেখতে কেমন দশটা বছর কেটে গেল বল।
ভাঁটার টানে এক দিগন্ত দূর–
অথচ বুকের কাছে দাঁড় টানার শব্দ।
আবার দেখ বর্ষা এল।
আমার ভিজে য়াওয়া শরীর জুড়ে তোর বকুনি,
প্রতিধ্বনি শুনি আজও;
শাসনের মাঝে এত যে ভালোবাসা থাকে
তুই না এলে বুঝতাম কোনোদিনও।
আমার সর্দিকাশির ব্যামো আছে তুই জানিস,
বৃষ্টি একদম সহ্য হয় না অথচ ভিজতে…..
বৃষ্টি এলেই তুই কেমন অস্থির হয়ে যেতিস
পাগলের মত এদিক-ওদিক খুঁজে যেতিস দেখা না পেলে।
মনে আছে তোর-
একবার বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে,
আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামলো….
সেকি তোর অস্থিরতা আমায় নিয়ে;
কখনো ছাতা, কখনো মাথার ‘পরে আঁচলখানি-
বৃষ্টি আর তুই দু’জনেই পাগল হয়ে উঠছিস বারবার
তোর দু’চোখে দেখলাম ভিজে যাওয়া আমাকে,
আর অসম্ভব পাগলামি ঘূর্ণি কাটছে।
আবার দেখ বর্ষা এল, বৃষ্টি অঝোর…
তোর আমার মাঝে শুধু দশটা বছর।
নীল, তোর মনে পড়ে আমাকে?
এখনও তোর সেই পাগলামি আছে?
বৃষ্টি এলে কাকে খুঁজে বেড়াস এখন,
বকুনি দিস আগের মতন?
বৃষ্টি এলে কাকে জ্বালাস এখন, কে তোর কথা শুনে?
নাকি নিস্তব্ধতায় ঘুমরে মরিস বুকের ভেতর,
বৃষ্টি লুকাস কেমন করে?
বর্ষা যায় বর্ষা আসে, বৃষ্টি ঝরে অঝোর…..
তুই ছটপট কেমন আজও শূন্য বুকের ভেতর,
তোর আমার মাঝে কেবল দশটা বছর।।