গল্পে বানীব্রত

মা হওয়ার গল্প

পাগলীটা আজ মা হয়েছে। কোন এক লম্পট  রাতের ফুটপাতের অন্ধকারে বিকৃত লালসা চরিতার্থ করেছে  পাগলীটার উপর। নিরালা রাতের অন্ধকারে প্রতিবাদ করতে পারে নি সে, সেই রাতে । আসতে আসতে বেবি বাম্প হয়েছে।  লোকচক্ষুর সামনে এসেছে। তবুও ভ্রুক্ষেপহীন।  আনমনে প্রতিদিনের মতোই বিরবির করে চলে তার ফেলে আসা স্মৃতির রোমন্থনে। মাঝে মাঝে পেটে হাত বোলায় পরম যত্নে পরম স্নেহে ।
মাঝে মাঝে তার কথায় অস্ফুটে উঠে আসে,  ” আমায় ছেড়ে  ভালো আছিস  তাই না? কি ক্ষতি করেছিলাম তোর, শুধু তো ভালোবেসেছি”। জট পরা চুলে উকুনের খোঁজে আঙ্গুল চলে অবিরাম  আর চলে বুক ফাটা কথা, ভালো  থাকিস।  কখনো দুচোখে গড়িয়ে পড়ে অশ্রুধারা৷ মানবিকতা হার মানে। হয়তো কোনো সুবিধাবাদী ভালোবাসা বাসা বেঁধে ছিলো সরল মনে, আজ তারই শিকার সে। সবার কাছে পাগলীর পরিচয়ে বাঁচা।
মা হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।  একদিন অলস দুপুরে ওঠে প্রসব বেদনা, কাতরাতে থাকে যন্ত্রণাতে, আর ঠিক সেই সময় টহল দেওয়া পুলিশের গাড়ির  চোখে পড়ে। ততক্ষনে যে পাগলিটা মা হয়ে গেছে।পুলিশের কর্তব্যরত  মানুষ গুলো ওদের নিয়ে যায় হাসপাতালে। ডাক্তার আসে দুজনকে দেখে। একটা ঘরের মেঝেতে এক কোনে মাটিতে জায়গা হয় পাগলী মায়ের। মানসিক ভারসাম্য হীন একটা নারী আজ পেয়েছে মাতৃত্বের স্বাদ।  পরম যত্নে সদ্য ফোটা কুঁড়িটাকে আগলে রাখছে। সে আজ পুর্নাঙ্গ নারী। কেউ কি ভেবেছিল  পাগলীটাও মা হবে একদিন।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।