কবিতায় বনানী

দেউলে
শিকড় নেই, তবু ঝুমঝুম ঝুমঝুম
পায়ের নিচে মাটি, মাটির নিচে মই
বেজে চলেছে সমার্থক যেন, ওঠানামার মতো।
তারই আশেপাশে ডেরা বেঁধেছে সম্পর্কের হাট—
নিয়ম মেনে বউনি হয়, সওদা হয়,
কিছুটা রোদ্দুর পেলে
গতজন্মের ভিতর থেকে অবিরাম
পাতা এসে পড়ে,
যেন শাড়ির চোরা ভাঁজে
উদ্দাম কোনও বন্য নদের আনাগোনা স্মরণ করায় চিরসবুজ এক অরণ্য নারী— শিকড় নেই, তবু
ঝুমঝুম! ঝুমঝুম! আশ্চর্য ছন্দে গড়া মায়াসংলাপ।
হয়তো তুমি নেই,
আমি নির্বাক তাকিয়ে আছি,
জানালা দিয়ে নিদারুণ তেমনই তুমুল মূর্ছনাগুলো
ঢুকে এলো আমাদের ঘরে,
আমি নীরবে চলে গেলাম তারই শোনানো পথে
আদিমব্রত নদের কাছে— পায়ের নিচে মাটি
মাটির নিচে মই— বেমালুম ডুবেই গেল অর্থময় সব‐–
কী হবে বলো গ্রীষ্মের উদাসীবেলায়
পুরুষ্টু চাদর পেতে কড়িও হও যদি, হাটবারেতে!