কর্ণফুলির গল্প বলায় আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম
by
·
Published
· Updated
থ্রেট আমার পিছু ছাড়ে না! নেই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি
আমি ৯৮-৯৯ সময়ে ঢাকায় যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্রাইম,পলিটিকেল ও করাপশন বিটে রিপোর্টিং করেছি তখন সাংবাদিক হিসেবে আমাকে প্রায় সময় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে থ্রেট দিয়েছে। সাংবাদিকতা আরও আগে থেকেই শুরু করেছিলাম ৯৮-৯৯সালে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে মাল্টিন্যাশনাল ফিন্যাশিয়াল প্রতিষ্ঠান, বেশ কিছু সুনাম ধন্য প্রসিদ্ধ ব্যাঙ্কসহ বিভিন্ন কলেজ ও প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত ছিলাম। ২০০৪ সালে এমফিল(গবেষক) হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ইএমবিএ বিভাগের চেয়ারম্যান ড.আব্দুল মান্নান চৌধুরীর স্যারের সুপার ভিশনে ও তৎকালীন ফ্যাকাল্টি ডিন ড.সিরাজুল ইসলাম স্যার ও প্রোভিসি ড. শহিদুল সারের কোর্স কো -সুপার ভিশনে ছিলাম । প্রফেসর ড. মান্নান স্যার ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব। ইতিপূর্বে ৯৬-৯৭ সালে রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর কুখ্যাতদের আমি বেশ কিছু লেখা লেখি করেছিলাম।তখন বিভিন্ন সময় আমাকে থ্রেট দেওয়া হয়েছিল। গবেষণা পড়া লেখা সিকেয় তুলে পালিয়ে বেড়ালাম। জীবন নিয়ে পালিয়ে বেড়ালাম। তবু একটু শান্তনা ছিল জামালপুর আইবিএ কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা মাইনুল ভাই ছিলেন আমার কোর্স সহপাঠী।আর একটূ ভালো সম্পর্ক কারণ আমিও জামালপুর আইবিএ কলেজের একজন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। তা যাই হোক আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম (সলিমুল্লাহ) হলের এটাস্ট হলেও থাকতাম মুহসীন হলে। মাইনুল ভাই মাঝে মাঝে হলে আসতেন আমার সাথে দেখা করতে। ভালো লাগতো ভাইকে পেয়ে। এখন নিজের শহর নিজ বাড়িতে নিজের জন্ম স্হান , নিজের এলাকা,এখানে বেড়ে উঠা নিজের শৈশব,কৈশর,যৌবন, ছাত্ররাজনীতি,ছাত্র সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা। এই চীর চেনা শহরে সাংবাদিকতা করি। এখানেও থ্রেট খাই প্রতিনিয়ত। কখন ও বলে ক্রসফায়ার দিবে, কেউ বলে গুম করবে ,কেউ বলে খুন। ২০১৭ সালে হার্ট এটাক হলে দুটি রিং লাগিয়েছি।তখন দেখেছি অনেক চীর চেনা লোকের মুখ গুলো লুকিয়ে নিতে। অবশ্য একসময় যাদের জন্য অনেক কিছু করেছি নিঃস্বার্থ ভাবে। তাদের বেশির ভাগই পাশে থাকেনি।আমার বিপদে পালিয়ে চলেছে। মৃত্যুর প্রহর গুনেছি দিনের পর দিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। আল্লাহ রহমতে ও মানুষের দোয়ায় বেঁচে গেছি। গত মে থেকে আবারও একটি চক্রের অনবরত থ্রেট করছিল। রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশের বিপর্যয় ও জীব বৈচিত্রের ভারসাম্য,ভূমি বিরোধ ও গণমানুষের অধিকারে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সাংবাদিকতার কারণে একটি গোষ্ঠী থ্রেট দিতে শুরু করে। সরাসরি বাড়িতে এসে ,ফোনে, হাঁটে ঘাটে মাঠে , যেখানেই পায় সেখানেই। পেশাগত কাজে সাভারে সিসিডিবি হোপ ফাউন্ডেশনে ২৬মে থেকে এএলআরডির একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করি । সেখানেও নানা ভাবে আমাকে অনবরত থ্রেট করতে থাকে । ১জুন ২০২১ ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় দুপুরে দ্বিতীয় বার আবারও হার্ট এ্যাটাকের ঘটনা ঘটল। দূর্বৃত্তরা বারবার সেখানেও আমার পিছু নিয়ে ছিল। আল্লাহ রহমতে অসংখ্য মানুষের দোয়ায় আবারও বেঁচে গেলাম। আপনাদের অনুপ্রেরণায় শত কোটি দোয়া ও ভালোবাসায়। থ্রেটের নিয়তি আমায় যেনো পিছু ছাড়ে না! বিগত সময়ে জামালপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে নিউজ সংক্রান্ত কারনে একটি গোষ্ঠীর চক্ষুশূল হয়েছিলাম। শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করে প্রাণে নাশের হুমকি দিয়েছিল। জামালপুর সদর থানায় একটি জিডিও করা আছে। করোনার আগে বিগত সময়ে জামালপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে ওয়ান টেন নামক এক প্রকার জুয়া চলতো। স্হানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রভাবশালী কিছু সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ম্যানেজ করে এই অপকর্মটি প্রকাশেই চলতো।ফলে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে দিনের বেলায় চুরি, ছিনতাই এর মত অপরাধ, মাদকাসক্তদের উৎপাত বেড়ে গেলো। এই বিষয়ে কতিপয় সাংবাদিক আমরা সরব হলাম। নিউজ, ফেসবুকে লেখা লেখি শুরু হলো। বিষয়টি নিয়ে জামালপুর সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আবদুল মান্নান ভাই ও তৎকালীন সময়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী( বস্ত্র ও পাট) মির্জা আজম ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বললাম। বিষয়টি তিনি গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে জুয়া বন্ধ হলো। শহরের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বতি ফিরে এলো। কিন্তু শুরু হলো আমার বিরুদ্ধে হুমকি ধামকি। কিছু সাংবাদিক নেতা হমকি দিলো প্রেস ক্লাব থেকে পিয়ন দিয়ে আমাকে ঘাড় ধরে বের করে দিবে। কেউ কেউ আবার দেখে নিবে জামালপুর শহরে কী ভাবে সাংবাদিকতা করি। জুয়ার টাকার কিছু ভাগ এদের রক্ষাকারিরা পেত। জুয়া বন্ধ হওয়ায় তারা প্রচন্ড ক্ষিপ্ত আমার উপর। এরপরও আমি সাংবাদিকতা বন্ধ করি নাই। লিখতে চেষ্টা করি সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে। এখন প্রেসক্লাবে আড্ডা দেই না। সমাজপতিরা আলোচনা করেন আমি জামালপুরের কোন প্রেসক্লাবের সদস্য। শুনেছি বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সভাপতিদের ঠেকে তারা জিঙ্গাসা করেন আমি কোন ক্লাবের সদস্য। আমি বলি সাধারণ মানুষই এখন আমার প্রেসক্লাব। নাগরিক সাংবাদিকতা বাড়ছে। অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত জাতীয় গণমাধ্যমের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিক সাংবাদিকতা চর্চা বাড়ছে।এটি জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ যথেষ্ট ভূমিকাও রাখছে। আমি এই রাষ্ট্রের অতি ক্ষুদ্র একজন নাগরিক। থ্রেট নিয়ে এখন আর ভাবিনা ওটা ডাল-ভাতের মতই নিত্য দিনের সাথী।