ক্যাফে গল্পে আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

ধান্য দেবী পুজো
এ বাড়ির বৌ হয়ে আসা কামিনীর খুব বেশি দিন হয় নি। ফলে এখানকার পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে তার তেমন ধারণা নেই। সন্ধ্যা হতে না হতেই তাই সে পিছনের জানলা বন্ধ করে দেয়। না হলে পিছনের মাঠ থেকে যদি কোন মেঠো ভূত এই বড় বড় দাঁত বের করে তাকে ভয় দেখায়! স্বামী তো আর সব সময় ঘরে থাকে না। ব্যাটা ছেলে মানুষ কখন, কোথায় বেরিয়ে যায়।
কিন্তু কামিনী একদিন জানলা বন্ধ করতে ভুলে যায়। সেদিনই আবার তার স্বামী কলকাতা যায়। তারপর এক ঘুম পেড়ে উঠে অনেক রাতের দিকে যখন জানলা বন্ধ করতে যায় কামিনী মাঠে একটা জিনিস দেখতে পায়।
মাঠে এখন ধান চাষ রয়েছে। কিছু কিছু ধান পাকতেও শুরু করেছে। সব ধান পাকেনি। তবে কিছু দিনের মধ্যে সব ধান পেকে যাবে। সোনালি রং ধরতে শুরু করেছে। চাষিরা তখন মহা উল্লাসে সেই ধান কাটতে শুরু করবে। চাষিদের কাছে ওটা একটা মহা উৎসব।
কামিনী দেখতে পায়, চাঁদের আলোয় একটি সুন্দরী ললনা; মাঠে মাঠে হেঁটে বেড়াচ্ছে। পরনে অতি মূল্যবান ঝলমলে পোশাক আর দুই হাতে ধানের দুটো শিষ। শিষ দুটো মাঝে মাঝে কোন না কোন ধানের মাথায় ঠেকাচ্ছে।…
সব মিলিয়ে একটি চমৎকার দৃশ্য!
কিন্তু দৃশ্যটি কামিনী বেশিক্ষণ দেখে না, হড়াম করে জানলা বন্ধ করে দেয়।
পরের দিন শাশুড়ি মায়ের কাছে কামিনী গল্পটি করলে তিনি বলেন যে, ও হল ধান্য দেবী, ধানের ফলন বৃদ্ধি করা হল ওর কাজ। ধান উঠে যাওয়ার পর চাষিরা ওর নামে সবাই পুজো করে, ধান্য দেবী পুজো।