গল্পবাজে আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস (অন্তিম পর্ব)

সব ঠক
রোজ বিকেল তিনটে নাগাদ পরিতোষ দোকানে চলে আসে।কিন্তু আজ তার দোকানে আসতে চারটে বাজল।এসে দেখল,তার বাবা বিষণ্ণ মনে চেয়ারে বসে রয়েছে। পরিতোষ জিজ্ঞেস করল,”তোমার মন খারাপ কেন, কী হয়েছে?”
আশুতোষ উত্তর করল না।
পরিতোষ তখন বলল,”কী হল,কথা বলছ না কেন?”
আশুতোষের চোখ থেকে তখন জল ঝরে পড়তে লাগল।
“এ কী!তুমি কাঁদছ!কেন?”
আশুতোষ বলল,”ওই তিন ভদ্রলোক আমার কাছেও এসেছিল।আমার কাছ থেকেও তারা মিষ্টি নিয়ে চারখানা পাঁচশো টাকার নোট দিয়ে চলে গেছে।”
“কী বললে!”পরিতোষ শুনে চমকে উঠল।
“হ্যাঁ,রে।”
পরিতোষ তখন বলল,”তোমাকে ফোন করে নিষেধ করলাম তাও তুমি নিলে? তোমাকে নিয়ে আর পারিনা বাবা।”
আশুতোষ মাথা নিচু করে চুপচাপ ছেলের বকুনি শুনল এবং পরে ছেলে যখন থামল তখন বলল,”ঘটনাটা তুই ফোন করার পরে ঘটেনি।ঘটেছে তুই ফোন করার আগে।তুই বাড়ি যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে।”
“ও,গড!”পরিতোষ তখন মাথা ধরে বসে গেল।খানিক বাদে বলল,”নোট গুলো দেখাও দেখি!”
আশুতোষ নোট গুলো বের করে দেখাল। পরিতোষ নোটগুলো দেখে চিৎকার করে উঠল,”এ তুমি কী করেছ গো?সব গুলো জাল নোট।হায় হায় হায়!”
আশুতোষ কোন কথা না বলে তখন শুধু বসে ভাবতে লাগল,পৃথিবীতে মানুষকে বিশ্বাস না করা মহাপাপ।যেকারণে সে তাদের বিশ্বাস করেছিল।যদি বুঝত,বিশ্বাসের মূল্য এই হবে তাহলে সে কি বিশ্বাস করত?নিজে নোট চিনতে না পারলেও অন্য কাউকে দিয়ে চিনিয়ে নিত।তার মতো সহজ সরল মনের মানুষ কী করে বুঝবে যে,ওরা ভদ্রলোক ছিল না।ছিল ভদ্রলোকের আড়ালে মুখোশধারী শয়তান।…ভগবান নিশ্চয়ই এর বিচার করবেন।…ভাবতে ভাবতে হঠাৎই আশুতোষ চেয়ার শুদ্ধ হুড়মুড় করে নিচে পড়ে গেল।
পরিতোষ হাত চারেক দূরে একটা চেয়ারে বসেছিল।সঙ্গে সঙ্গে সে বাবার কাছে দৌড়ে এল।মাথাটা তার জানুর উপর তুলে নিয়ে বলল,”বাবা,ও বাবা,কী হয়েছে তোমার? আমাকে বলো।তুমি পড়ে গেলে কেন?কথা গুলো আমি তখন তোমাকে বলিনি।তুমি আমার কথায় রাগ করোনা বাবা।বাবা,রাগ করোনা,প্লিজ!কথা বলো বাবা,কথা বলো।” পরিতোষ একা একা তার বাবাকে কথা বলানোর অনেক চেষ্টা করল কিছুক্ষণ ধরে। কিন্তু যখন না পারল “বাবা…ও বাবা….”বলে চিৎকার কান্না জুড়ে দিল।তার কান্নায় লোক জমে গেল এবং জল ঢেলে সবাই তাকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করল।যখন হল না তখন হাসপাতালে নিয়ে গেল।দশদিন পর তার চিকিৎসা করানো থেকে ছেলেকে সে রেহাই দিয়ে চলে গেল।
পরিতোষের চোখে এখন গোটা দেশে ভদ্রলোক বলে কেউ নেই।সব ঠক!সব শালা ঠক!