গদ্যের পোডিয়ামে অমিতাভ সরকার

মুখোশবাজির বাজনা অনুষ্ঠানে
ফোনে যেতে বলেছে
রাম শ্যাম যদু অনেকেই আসছে
এবার আসরটা বাসার থেকে অনেকটাই দূরে
স্কুল শেষে টিফিন নিয়ে ট্রেনে করে তারপর আবার মেট্রো
খরচ আর সময় দুটোই গচ্ছা
পথ আর শেষই হচ্ছে না
কোনদিকে ঢুকব
যেদিকে যাচ্ছি সেদিকেই ডাকছে
সবদিকেই সুন্দরী
সুন্দর তাদের হাসিমুখের নির্মেদ চমৎকারিত্ব
মানিব্যাগটা এবার সত্যিই
মনের ভিতরটা বাঁদরামির চড়া শীতে রেগে কাঁই
এরমধ্যেই কিছু কবি হন্যে হয়ে সত্যিই কবিতাকে খুঁজছেন
তবে ঠাসা ভিড়ে সবাইকে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না
আমি এগিয়ে যাচ্ছি
আরও সামনে আরও আরও
আস্তে আস্তে চেহারার সবটাই দৃশ্যমান
দাঁত মুখ বুক নাভি কোমর তলপেট নিতম্ব হাত পা
আমাকে কেউ দেখতে না পেলেও আমি ওদের সব্বাইকেই
চেনা রূপগুলো না আর চিনলেই ভালো হতো
জীবনে অনেক রকম পাগল দেখেছি
কিন্তু এরকম ভালো মানুষের মুখোশধারী শয়তান খুব বেশি পাওয়া যায় না
মুখ দেখে বুঝতেই পারবেন না তলে তলে যে এতটা
পাগলামির আরেক নাম ফেসবুক
সাহিত্যসভা বই বিক্রির একটা বড় জায়গা
এত ক্রেতা বিক্রেতা কখন কে যে কোন ভূমিকায় সেটাই বোঝা যায় না
বই পড়তে পছন্দ না করলেও এখানে ফেসবুক সবারই পছন্দ
মেসেঞ্জার আরেকটা ধান্দাবাজির জায়গা
এখানে অনেককিছুই চলে
তবে কেউ আসে কেউ আসে না
কিন্তু শীতের সকালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান বা
বসন্তের বিকেলে উত্তমকুমারের সিনেমার ক্লিপিংসগুলো আজও মনটা কোথায় যেন নিয়ে চলে গেল
ভুলের সবটা তার মানে খারাপ নয়
যবে থেকে কবিতা লেখা শিখছি
আকাঙ্ক্ষা বানানটা লিখতে গিয়ে তাই দেখছি বারবার ভুল হয়ে যাচ্ছে
একই সেই ভুল
ফেরার গাড়িতে আমি তখন ব্যাগের ভারে আর নড়তে পাচ্ছি না
ঘরে ফিরে বকা খাব
বাড়ির মানুষগুলোর জন্যেও এত ব্যাটারি খরচ করিনি এগুলোর জন্যে যা
এই শেষবার
মুখে যতই বলি রাম শ্যাম আবার কেউ বললে কি তখনও এমন ছুটব
নাকি আমার নিজেরও এতে কিছু…