নদীর এপার থেকে নিঃশ্বাস ছাড়াটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।আমরা একদিকে দাঁড়িয়ে থাকি সমস্ত রাগ অভিমান স্পঞ্জের মতো শুষে নিতে নিতে একসময় হারিয়ে ফেলি শোষণ ক্ষমতা।
তারপর ক্ষমতার মূল্য দিতে হয় আজীবন।
নাহ আর হচ্ছে না।তমার জন্মদিনটা এইভাবে মাটি করে দিতে পারেনা নীল।ঘুমঘুম চোখে বিছানা থেকে পা নামিয়ে চটিজোড়া পায়ে গলিয়ে পাশের ঘরে ডাকতে গেলো নীল তমাকে। “তমা!এই তমা!বাবু সরি আমি আর কোনোদিন এইরকম রিঅ্যাক্ট করবো না প্লিজ দরজা খোলো।একটু বাদেই মা বাবা বুনু সবাই এসে যাবে। আমার অনুশোচনা হচ্ছে ভাবতে পারছো তো!”
ধুর দরজাটা খোলেনা।
নীল ভাবলো আজ ওকে চা বানিয়ে দেবে যেটা প্রতিবছর ও করে আসছে। তৎক্ষণাৎ আবার ভাবলো।চা বানানোর আগে গরম গরম লুচি আলুর দম মিষ্টি দিয়ে আজ ওর দিনটা শুরু করা যাক।সেই মত সময় করে সব তৈরী করে নীল এবার তমার অফিস যাওয়ার শাড়ি সায়া ব্লাউজ সমস্ত কিছুই নিয়ে এলো ওকে ডেকে খাইয়ে স্নানে পাঠিয়ে নিজেও তৈরী হবে তারপর অফিস বিকেলে সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টি ।
হাজার ঝগড়া হলেও তমার এই কয়েক বছর ধরে অভ্যাস অফিস যাওয়ার শাড়ি সহ সমস্ত কিছুই নীল করে দেবে। আর জন্মদিনটা যে যেখানে যেমন ভাবেই থাকুক একসঙ্গে কাটাবে। এই দিনেই ৬বছর আগে আলাপ ওদের। তারপর ৬টা বছর কেটে গেছে।
নীল একভাবে দাঁড়িয়ে আছে সমস্ত কিছু তৈরী করে। তাদের বিয়ে একসঙ্গে সময় কাটানো রঙিন স্মৃতি অথচ কাল রাতে ওকে ইস কী ভুলটাই না করেছে ছিঃ।
আবার তাকে ডাকতে এগিয়ে গেলো নীল। তমা ! তমা! এই তমা দরজা খোলো!দরজা ধাক্কা দিতেই দরজা হুট করে খুলে গেলো । ভেতরে পা রাখলো নীল।
দুই বছর আগে জন্মদিনের আগের দিন নীল তমার কত ঝগড়া হলো। নীলের বিদেশ যাওয়া নিয়ে।সমস্ত রাগ অভিমান এক জায়গায় । অফিস থেকে লেট আসা নীলের । তমার অপেক্ষা করে থাকা সমস্ত কিছু সেদিন বেরিয়ে এসেছিলো।
রাগের মাথায় প্রথমবার হাত তোলে নীল। তারপর ঝগড়া করে তমা সেই রাতে পাশের ঘরে শুতে যায়।
পরেরদিন সকালে নীল তার জন্মদিনের জন্য সব কিছু তৈরী করে আজকের মতোই সাজিয়ে গুছিয়ে তমাকে ডাকতে গিয়ে দেখে তমার নিথর দেহটা সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলছে …