গদ্যের পোডিয়ামে অমিতাভ সরকার

শ্রদ্ধেয় কবি তৈমুর খানের জন্যে
কবির সঙ্গে কথা হয়। সামনে দেখিনি এখনো, গল্প শুনেছি, জীবনের বাঁক্ অভিঘাতে ভরা সত্যের চির অন্বেষণের গল্প।
ওঁর সব কবিতাই যে পড়া হয় তা নয়, কিছু পড়ি, তাতেই আবিষ্ঠ হয়ে অক্ষরের দীঘিপুকুরে ডুব দিই (তবে বেশিক্ষণ ডুবে থাকতে পারি না), লাভ করি মনের নিবিড় শান্তি, সেই সাথে মুক্তির খোলা আকাশে চোখ মেলে তাকাই, দেখি সময়ের মেঘেদের সাথে কিভাবে শব্দের জ্যোৎস্নায় সারারাত খেলে হিরণ্য মাছেরা, কিভাবে সভ্যতা কাপে এক বিস্ময়ের জ্বরে, আবার কখনো হারিয়ে যাই কবির ভাঁড়ারের চাবি খুঁজতে (বলাবাহুল্য চেষ্টা করি, তবে পাই না। খুঁজে পেতে আমার এখনো অনেক দেরি আছে।)
আবার সেখান অনেক কষ্টে ফিরে আসা। লিখতে গেলে কষ্ট করতে হয়, কষ্ট পেতে হয়। তাই আবারও অন্তরের দু চোখ মেলে তাকিয়ে থাকি কবি-আত্মার ‘আত্ম সংগ্রহ’, ‘আত্মক্ষরণ’, ‘আত্মস্বর’-এর জীবন বর্ণমালার প্রতিটি ছত্রে। বুঝতে পারি না কোথায় পা রাখি। যেখানেই পা রাখতে যাই, দেখি সেটাই সমুদ্র হয়ে গেছে।
কবি সাধনা করে চলেন। অতি সাধারণ, আটপৌরে জীবনে আরেকটু বেশি কষ্ট লাভের সাধনা।
আমি বিস্মিত হই।
‘প্রাচীন পৃথিবীর রহস্য-আলোয় জল খেতে এসে দেখি
সব ঝরনায় আমারই ঈশ্বর হেসে ওঠে…’