গদ্যের পোডিয়ামে অমিতাভ সরকার

অসময়ের চালচিত্র

আমাদের সমাজটা বিয়েবাড়ির ভোজ খাওয়ার জায়গা।চেয়ারে বসে হোক,বুফেতে দাঁড়িয়ে হোক খাওয়ার সবরকমই ব্যবস্থা আছে।দুঃখের দিনে সুখের খাবার মজুত হতেও বেশী সময় লাগে না এখানে।পরিশ্রমার্জিত সঞ্চয়ের পাশে আবার নষ্টের নষ্টালজিয়াও অনেকখানি জায়গা জুড়ে স্থান দখল করে আছে।নষ্টতে কারো যেন কষ্ট হয় না,এতেই আনন্দ।মনের উত্তাপের সেলফি ছোঁয়ায় লোকদেখানো ভালোমানুষির রোজকার স্ট্যাটাসে কয়েকশ,হাজার লাইকের ভিড় পড়ে।তবুও কিন্তু অদেখার অন্ধকারে রহসাবৃতভাবে এ মনের রোজকার বেঁচে হাসা,কুয়াশাচ্ছন্ন দিনের আজও অনেকটাই ।

সবাই নিজেদের দেখাতে এখানে সেজেগুজে হাজির হয়।কেউবা আসে রূপকথার শহরে সুন্দরীদের রূপের হাটে মনের বাজার সারতে,কেউবা শুধুই কিছু শব্দের চর্বিযুক্ত ব্যভিচার উদরস্থ করতে,আবার কেউ নিজ ভাবনার দাঁড়িপাল্লায় জোর দরদাম হাঁকিয়ে জ্ঞাত অজ্ঞাত রোজকার সময় অপেক্ষকের রাশিমালায় কঠিন সহজ নামধারী চেহারার যোগ্যতা,ভাগ্যের ব্যস্তানুপাতিক অঙ্ক কষে চলে।অঙ্কগুলো আদৌ কতটা ঠিক হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই,তবে হিসেবটা চলতেই থাকে।

দিনের সমস্ত সম্ভব অসম্ভবের সম্ভাবনার কাজের শেষে ক্লান্তি আসে,সময়ের ক্লাসে ঠাণ্ডা-গরম লেগে হাঁচি, সর্দিকাশি হয়।আর তখনি বেরিয়ে পড়ে আসল চেনা মুখের চেহারাটা।

তবুও যতই দেখা যায়,ততই ক্ষুধা বেড়ে যায়,নিবৃত্তি আর হয় না।অবশেষে সেই আড়ালেই রাখতে হয় জীবনের ক্ষোভ,লোভ,স্তুতি, দ্রুতি,আশা হতাশা,মোহ,মায়া।আসলটা বেরিয়ে আসবেই।

তাই এখানে যে যতই দামী পোশাক পড়ুক,মুখটা ঠিকই ঢাকতে হবে,নয়তো গালমন্দ করবে পাশের মানুষটাই।মুখটা না ঢেকে আজ আর উপায় নেই!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।