গদ্যের পোডিয়ামে অমিতাভ সরকার

ডুম ফটাশ
ধরুন কোন কিছু ঠিক মনঃপুত হচ্ছে না, যেমন চাইছি তেমনটাও ঘটছে না, কিন্তু করতে হচ্ছে সবই। সহ্যের পাড় ভাঙছে, ঢল নামছে ক্রোধ জমা জলের, আর তার মধ্যে এতক্ষণের মেঘ জমা আকাশে আবহাওয়া হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ, বাতাস বইছে জোরে, মেঘের খেয়া পালে অসুর শব্দ বৃষ্টিতে অস্থিরতার দুর্বিনীত তাণ্ডব;
রাগটা আর চাপা থাকছে না, ভীষণভাবে জনসম্মুখে বেরিয়ে পড়ছে চরম হিতাহিতজ্ঞানশূন্য অবস্থায়।
হঠাৎ করেই তেড়ে ওঠা রাগের যথোচিত কারণও আছে, দীর্ঘদিনের ক্ষুণ্ণতার থেকে ক্ষুব্ধতার গোপন জন্মলাভ, বেড়ে ওঠা, দুঃখের ডালপালা বিস্তার, কিন্তু সব সময় সেটা সবাইকে বোঝানো ঠিক না। তাদেরও অনেকটাই বুঝে নেওয়া উচিত। মুখে বলে সবকিছু হয় না।
সমস্ত দিনের করণীয় কর্মাবলী,নিজস্ব দায়িত্ব, সংসারের প্রাত্যহিক কর্মসূচি সবকিছু নির্দিষ্ট নিয়মেই পালন করতে হয়। তাতেই সবকিছুর শান্তি। সময়ের মধ্যে কাজ না করলে কি জীবন চলে!
দুনিয়ায় টাকা নেই তো কিছুই নেই। আর তার জন্যই যত লেখাপড়া কঠোর অধ্যবসায়, মনের অনুশীলন এত বছর ধরে।
শুধু নিজের দোষটা যখন অন্য কারোর মধ্যে দেখি তখন ভিতরে ভিতরে খুব খারাপ লাগে।
বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হলেও মনের গরমটা তাতে কমে না, উৎসবের সমারোহে বাইরে থেকে সবকিছু খুব ঠিকঠাক মনে হলেও, ওইরকম পরিস্থিতি হলে সবার সামনে ভিতরটা ঠিক নিজের চেহারায় স্থান-কাল-পাত্র না চিন্তা করে বেরিয়ে আসবেই।
অনেক চেষ্টা,দীর্ঘদিন সাধ্য সাধনার পরেও এই অবস্থার পরিবর্তন করা যায় বলে আদৌ জানা নেই। মন খুব বিচিত্র এবং সদাসক্রিয় সঞ্চরণশীল।শরীর বিশ্রাম নিলেও এ কোনোদিন অবসর নেবে না।