।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় আনোয়ার রশীদ সাগর

শরতের তিনটি পদাবলী
শরত
বিবর্ণ স্মৃতিগুলো নীলাকাশের বুক চিরে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ হয়ে ভেসে যায়।
আকাশের চোখগুলো সন্ধ্যাতারা হয়ে উঁকি দেয় সবুজে সবুজে,
শরত-বরষায় মগ্ন উপন্যাসে শিউলী ফোটে আঁধারে আঁধারে;
আবছা ছায়ায় চাঁদের বিলাসিতা হৃদয়ের গহীনে গহীনে,
বেহালা সুরে স্মৃতির প্রজাপতি নিরুদ্দেশ উড়ে যায়
কবিতার পঙতি আজ মেঘেদের পাখায়।
আমি হায় ভিনগ্রহে রঙিন ছবি এঁকে চলেছি মনের খাতায়,
মেঘের পাপড়িতে ভর করে উল্থান-পতনে ঘোরাই লাটাই।
শূন্যতার মাঝে শূন্য খুঁজে, আকাশের যোনিতে লুটাই পাখা;
শ্রাবণের মেঠো ফুলে রাখিনি হাত, শিউলীতেও হয়নি আঁকা;
তাই অনুশোচনার জোয়ারে ঈশ্বর থেকে হয়েছি ছাটাই।
বিবর্ণ স্মৃতিগুলো নীলাকাশের বুক চিরে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ হয়ে ভেসে যায়
শরতের কাশবনের রঙ যেন কাফনের বেশে আমাকে জড়ায়।
আকাশ
স্বপ্নে বিভোর শরতের রাত জ্যোৎস্না ভাঙে বুকের পাঁজর,
নীরবতা ভেঙে অভিসারী হয় কাঙ্খিত বাতাস;
ছুঁয়ে ছুঁয়ে রঙধনু কুঠিরে আবেশী শ্রাবণী ধারা,
সীমারেখা এঁকে ভেঙে দেয় পাখির পালক।
জল ভালবাসায় সুদূর অতীত চাহনি,
কৈশোরের ভাঁজে ভাঁজে কিশোরী মুখ,
চাঁদনী রাতে নিদ্রাদেবী খেলে পলানটুক।
শ্বেত সাম্পানে হেঁটে যায় স্কুলের পথে,
স্মৃতির রথে চলি আমি জ্যোৎস্না এ রাতে,
আকাশ চাঁদে নিঃশব্দ কষ্টধ্বনি।
বেহালা সুরে অভিমানগুলো শব্দবুননে
নেমেছে আঁধারের ঠিকানায়, হেঁটেছি অভিরাম;
স্মৃতির ক্যানভাস এঁকে চলেছে, শূন্যের পাতায়
শঙ্খচিলের পালক ভাঙা শিশিরে শরতের খাতায়।