কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে আনোয়ার রশীদ সাগর

সন্ধ্যা – ভোরের প্রাণিগুলো

বসন্ত যেতে না যেতেই ঝরাপাতার উদাস গান বাউল হয়।
বাউল পাতাগুলো প্রেম পোষে ভোররাতে,
জ্যৈষ্ঠখরায় দক্ষিণা বাতাস টেনে আনে যৌবনের আবেশ।
বর্ষা এলেই পচন্ত স্মৃতিগুলো হারিয়ে যায় নিঝুম কাদায়,
বিবর্ণ মাঠগুলো বধুসেজে শাড়ির আঁচলে লজ্জা ঢাকে
নিঃসঙ্গতার সংলাপ ভুলে পাখিগুলো সবুজ পাতায় টিকটক খেলে।
ঝুমবৃষ্টি হাওয়ায় প্রেমিক যুগল ঝুলবারান্দায় গল্প বোনে-
পিউপিউ চিকচিক কতকিছু।
ভরদুপুরের আলো-ছায়ায় মেঘভাসা অন্ধকারে আঁকাবাঁকা নাচে গায়,
রং বদলের দিনদুপুরে হলুদ লেজের রঙিন পাখি লেজ নেড়ে খেলায় মাতে।
খয়েরি রঙের দুষ্ট পাখি কুক-কুক ডেকে চুরি করে বাচ্চাগুলো
আহা চোর চোর বলতে বলতেই পালাই সে শপিংমলে শিশুপুরে ঝোড়-জঙ্গলে।
শালিক-ঘুঘুর কান্নার সুর দ্রুত থেমে, করে আবার নাচানাচি।
জীবনটাও এমনই, ধূসর-ধূলি ভুলে বানভাসি মানুষগুলো লড়াই করে
বেঁচে থাকার লড়াই থেকে ভুলে যায় স্বজন হারনোর দুঃখগুলো।
শালিক যেমন ডেকে ওঠে চিঁ-চুঁ আনন্দে
তেমনই মানুষগুলো লাশ ভাসিয়ে দুদিন পরেই
হারিয়ে বনে খেতখামারে।
বিমর্ষ সন্ধ্যা নামে আনন্দে ভোর আসে ঝিলমিল নতুন ধানে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।