আমি এক অনন্য যাদুকর, কবিতা লিখি না, কবিতার
গোলাঘর পাহারায় থাকি।
তোমার নদীতে বান ডেকেছে, আমি কি করি এখন?
বিপন্ন বরাভয়ে ভেসে যাবো কি —— দূর সমুদ্রে একা।
আমার রূপান্তর রয়েছে, কিছু না পারার গ্লানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছি। তোমার চোখ দুটি ফোলা ফোলা, কান্না করেছো।
অধৈর্য বৃষ্টির মতো, গ্লানির ধারণা তোমাকে টেনে হিঁচড়ে
নিচে নামিয়ে এনেছে।
আমাকে ছেড়ে দাও, আমি এক একনিষ্ট পাহাড়াদার,
তুমি কেনো কাঁদছো, তুমি অভিষ্যন্দ, প্রাচুর্যে ভরপুর, জাস্তি।
আমি আমাকে লিখতে পারিনি, তোমাকে শান্ত হতে বলেছি, একজন অন্ধের মতো নিজেকে নির্ণয় করছি।
পিছনে যা ফেলে এসেছি সেসব মরুভূমির পাথরের মতো
শত শত বছরের চিহ্ন,
তোমা থেকে আমি বিচ্ছিন্ন নই, নিকটেই।
কুৎসা কোরো না, এবং অপবাদ দিও না, আমি —— একজন সত্যিই একনিষ্ট পাহাড়াদার, কবিতার।
সন্ধিপাঠ
সব মধু মনে হয়, সব বিষ, কোনটা খাবো কোনটা খাবো না, এ নিয়ে দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব, সক্রেটিস বিষপান করেছিলো,
আমি বরং সেটাই করি।
খুঁটিবাঁধা সিংহের দড়িটা খুলে দিই, তুমি ওর গলার দড়িটা ধরো আর ওকে পাহাড়া দাও,
ওয়াসরুম থেকে আমি এক্ষুণি আসছি।
ফিরে এসে দেখি, সিংহ রয়েছে, তুমি নেই।
তুমি আছো সিংহ নেই, এটাই কথা ছিলো, হওয়ার।
হায় বিচ্ছেদ! হায় বিদুর। অন্ধের কি বা রাত্রি কি বা দিন,
তার দিব্যজ্যোতির কি-ই বা প্রয়োজন।
পাথর বেষ্টিত জলাধার, কোথাও কুহক ডাকে,
কী অদ্ভুত মায়া মানুষের——বুলবুলির দুঃখই
বুলবুলির গান,
আপন জনেরা আপন করতে পারে না কখনও।
বিতাড়িত পাখিদের মতো উদাসীন ছিলাম, একটি অনাথ শিশুর মতো উদাসীন ছিলাম।
আমিও মাঘী জ্যোৎস্নায় ভিজে, মুক হয়ে, কুলছাপা হয়ে, বিষ পান করতাম।
কে তোমাকে ডাকে, নদী হয়ে ঝরে, তৃণবহুল এক বিস্তৃত মাঠে।