গদ্য কবিতায় অমিত পান্ডে

সেদিন সারাদিন
সেদিন ভীষন মন খারাপের সময় টা হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম নদীর ধারে। কিছুক্ষন বসব বলে। গিয়ে দেখি তার সময় নেই। ভীষণ রাগ হলো, বললাম তুমি কি গো সারাক্ষণ বয়েই চলেছ, একটু থামলে তো দু দন্ড কথা বলা যায়?
আমার যে মনের কথা বলার মত কেউ নেই।
যেতে যেতেই উত্তর দিল, ভালো কথা বললে যা হোক, থামার সময় কোথায়? কেউ যদি পিছন থেকে এসে তোমার চলা থামিয়ে দেয় আর চলতে পারবে তুমি? তাই যতক্ষণ পারো এগিয়ে চলো যাতে পিছন থেকে কেউ এসে তোমাকে থামিয়ে না দিতে পারে।
আর কথা বলার জন্য অন্য কাউকে লাগবে কেন? নিজের সঙ্গে ই নিজে কথা বলো।
নদীর কথা গুলো ভাবতে ভাবতে ই পাহাড়ের সামনে এলাম। তার ওপর উঠে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলব বলে। উপরের দিকে তাকিয়ে আর ওঠার সাহস ই হলো না।
পাহাড় বলল কি হলো থামলে যে? উঠে এসো?
বললাম দূর এত চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, এত দূর্গম পথ পেরিয়ে তোমার ওপরে উঠব কি করে তা ই তো বুঝতে পারছি না।
পাহাড় বলল, শিখরে পৌঁছতে গেলে যে চড়াই উৎরাই পেরোতেই হবে । কেউ তো আর তোমাকে সিঁড়ি তৈরি করে দেবে না। তোমার পথ তোমাকে ই তৈরি করে নিতে হবে। নাও নাও আর দেরি না করে উঠে এসো। দেখবে শিখরে পৌঁছনোর আনন্দ কত টা।
অনেক কষ্ট করে পাহাড় উঠার পর দেখি একটুও কষ্ট নেই কোথাও।
হাত বাড়িয়ে আকাশ টা কে ছুঁতে চাইলাম। তখনো সে অনেক টা উঁচুতে।
চেঁচিয়ে বললাম তুমি এতো উঁচুতে যে তোমাকে আমি ছুঁতে ই পারছিনা। একটু নেমে আসতে পারো তো?
আকাশ হেসে বলল, আমাকে ছুঁতে গেলে যে তোমাকে ও উঁচু হতে হবে।
বললাম কি যে বলো তার ঠিক নেই। মানুষের পক্ষে সম্ভব নাকি এত উঁচু হওয়া?
আকাশ বলল, আমি শরীরের কথা বলিনি। মন টা কে এত উঁচু করো যাতে রোজ ই আমাকে তুমি তোমার মত করে ছুঁতে পারো।
রাতে দারুন সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখলাম। সকালে উঠে মন টা খুব ভালো হয়ে গেল। নিজেকে বেশ রাজা রাজা মনে হচ্ছে। সারাদিন রাজকীয় ভাবে কাটিয়ে রাতে তাড়াতাড়ি শুতে গেলাম আবার স্বপ্ন দেখব বলে।
সেদিন স্বপ্ন এলো না।
বিষন্ন মন নিয়ে পরদিন ভোরবেলা ছাদে একাই পায়চারি করছি হঠাৎ স্বপ্ন এসে বলল কি হলো মন টা খুব খারাপ বুঝি?
বললাম তুমি যে রাতে এলে না বড়?
স্বপ্ন হেসে ফেললো, বলল ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন আবার স্বপ্ন নাকি? স্বপ্ন দেখতে হয় জেগে জেগে। যে স্বপ্ন সত্যি করার নেশা তোমাকে ঘুমাতে দেয়না সেই স্বপ্ন দেখো। আর হ্যাঁ দেখো তোমার পা টা যেন অবশ্যই মাটিতে থাকে।