T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় অঙ্কুশ পাল

তোমাকে নির্মাণ করি
“What immortal hand or eye,
Could frame thy fearful symmetry?”
সাত সমুদ্রের বদলে দশটা সমুদ্র থাকলে কি হতো?
তুমি কি সমুদ্রতটে তোমার অসংখ্য পদচিহ্ন রেখে যেতে?
আর প্রত্যেকটা উর্মি সেই চিহ্ন চুম্বন করত অহর্নিশি?
আর তোমার প্রিয় হিমালয় কিংবা কদম্ব বন কি বঞ্চিত হতো,
তোমার সমস্ত স্নেহের স্পর্শ থেকে?
আমার এ উত্তর অজানা।
কারণ তোমাকে বিনির্মাণ করতে করতে আমি বুঝতে পারি,
তেজপূঞ্জ তোমায় নির্মাণ করছে বলে যতই প্রচার চলুক
তুমিই সেই নির্মাতা যে চাঁদের মতন নীল আকাশে বিলীন থেকেও বলে, “আমি নেই,
আমাকে খোঁজা বৃথা, আমিই সূর্য, আমিই আকাশ, আমিই পৃথিবী,
তোমার আইপ্যাডে যতবার তুমি আঙ্গুল ঘষটে আমায় আঁকো
ততবার আমি দশ নয়, দুই বহু দিয়ে তোমায় জড়িয়ে ধরে বলি,
মঙ্গল হোক,ও হাত অক্ষয় হোক, তুমি দেখতে পাও না, আমায় মা বলো না,
তাই বলে কি তুমি আমার সন্তান না? তোমার বিশ্বাসে অবিশ্বাসে,
নিঃশ্বাসে-প্রঃশ্বাসে, আমিই আছি, আমি বিনা দ্বিতীয় কেউ নেই”,
তোমার মায়া প্রপঞ্চময়! আমার সাধ্য কতইবা আর যে তোমাকে নির্মাণ করি?
তুমি কবিতার মতন সম্ভাবনাময়ী, আর আমি গল্প লিখি একটা লক্ষ্যে পৌঁছাতে
যে বিন্দুতে কেউ কাউকে পায়, আবার পায়না, খোঁজে, আবার হারিয়ে ফেলে
তুমি সেখানেই হারিয়ে যাও বিন্দুতে বিন্দুতে। সেই বিন্দুগুলো একত্র করে
তোমার অপার কৃপাসিন্ধুতে মিশে যেতে চাই; মিশতে দাওনা তুমি!
তাইতো আবার পুজো এলে লিখি ‘শ্রী দুর্গা রক্ষা করুন’, ‘শ্রী দুর্গা সহায়’!
তুমি অক্লান্ত হাতে সহায়তা কেন্দ্র ছাড়াই সাহায্য করো,
তোমাকে দশ হাত কেউ দেয়নি মা, তুমি নিজেই গড়ে নিয়েছি অমন অঙ্গসৌষ্ঠব!
তোমাকে কি আমরা নির্মাণ করতে পারি?