|| পঁচাত্তরে পা, সাবালক হলো না? || T3 বিশেষ সংখ্যায় অঙ্কুশ পাল

ভারতবর্ষের কোনো ভারতবর্ষ নেই
১
আমি যতবার ভারতবর্ষের পতাকা এঁকেছি,
গেরুয়া আর সবুজ রং অনুপ্রবেশ করেছে সাদা অংশে,
আমি সীমারেখা লঙ্ঘন করে পৌঁছে গেছি অশোকচক্রের কাছে
ভারতবর্ষ আমায় চোখ রাঙিয়েছে, আমি তাও
নীল তুলি ছুঁইয়ে এসেছি, তার বুকে; মা হেসে বলেছে “পাগল ছেলে”!
ভারতবর্ষ একগাল হেসেছে, কিন্তু আমি নিরুত্তর ছিলাম,
ভারতবর্ষ সত্তর উত্তীর্ণ এক স্বাধীন রাষ্ট্র, তাও কেউ ভারতবর্ষকে চেনেনা;
২
সেবার পেপার কাটারে আমার হাত কেটে গিয়ে,
ভারতের মানচিত্র লাল হয়ে উঠলো, টপে টপে রক্ত পরে।
রক্ত, পদ্মপাতায় টলমল করা জলের মতন,
কাশ্মীর থেকে এঁকে বেঁকে মধ্যপ্রদেশ কে ছুঁয়ে,
গড়িয়ে নেমে এলো কেরালায়।
আমি কান্নার গোঙানি শুনেছিলাম, পূর্বঘাট জুড়ে।
বনলতা সেন দুদন্ড শান্তি দিতে আসেননি।
সারা দেহে ক্ষত নিয়ে ভারতবর্ষ ঘুমিয়ে পড়লো;
৩
খেতে খেতে ডায়েরির পাতা ওল্টাচ্ছিলাম; ভারতের রেখাচিত্রের পাতায়,
একটু খাবার পড়লো। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধার্ত ভারত বেরিয়ে এলো
বস্তি থেকে, ঘর থেকে; রুটি সবজি নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করলো তারা।
কয়েকজন চেঁচিয়ে উঠলো, “একটু খাবার! একটা রুটি!”
সেদিন বুঝেছিলাম, পূর্ণিমার চাঁদকে ঝলসানো রুটির মত কেন দেখতে!
হাঁড়িতে টগবগ করলো শুধু জল। ভাত ফোটানোর টাকা নেই ভারতবর্ষের।
৪
আমাদের সব কিছুর জন্য ভারতবর্ষ আছে।
রাগে, দুঃখে, শোকে, অভিমানে, অভিযোগে
অথচ, ভারতবর্ষের কোনো ভারতবর্ষ নেই!