T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় অজিতেশ নাগ

১| মৃত্যুর মত শীত

একটু আগে বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলাম,
বটের শিকড়ের মত নেমে আসা –
মায়াঘেরা রূপরেখাময় রুদ্ধশ্বাস দাম্পত্য।
তুমি কী কী পেতে চেয়েছিলে?
অথবা কী কী পেলে ভরিয়ে তুলতে পারতে জীবনের খেরো-খাতা?
নশ্বর জীবনসঙ্গী অথবা নশ্বর জীবনসঙ্গীনি,
হাতে হাত রাখা কিংবা চোখে চোখ রাখা?
এতদিনে হৃদয়ে হৃদয় রেখে সম্পূর্ণ হল কি পাশাপাশি বালিশে শুয়ে থাকার খসড়া?
আসলে কিছুই দিতে চাওনি;
না দাম্পত্য,
না চোখ,
না হাত,
না হৃদয়,
না মনিহারি দোকানের মত একঠোঙা গৃহস্থালি!
পেট খসিয়ে নেমে আসা শিশু হাত ছাড়াতে পারলেই বেশী খুশী।
তুমি শুধু দুধের বোতল ধরেই থাক – ‘খেয়ে যা মামনি!’
জানলার বাহারি পর্দা সরিয়ে দেখ –
বাইরে কী ভীষণ কুয়াশাচ্ছন্ন – বাকি জীবনের জন্য –
শীত আসছে!
জমাট পাথরের মত, মৃত্যুর মত নিঃস্তব্ধ শীত!

২| এই সব

একদিন সেই ঘর থেকে বিতারিত হলাম
সেখানে একসময় সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো আমায়
একদিন সেই মাঠের পাশে বসে অন্যদের খেলা দেখলাম
একদিন যে মাঠে আমারই পায়ে বল ঠেলে দেওয়া হয়েছিলো
আমি অসুন্দর নই, আমি তেমন অরূপের পূজা করি না
এই ঘর, এই মাঠ – এইসব নিজের ভেবে নেওয়াটাই ভুল ছিলো
হাঁটার প্রয়োজন হলে নিরীহ ঘাসও উৎপাটিত হয়
হয়ত দরকার ছিলো, এখন আর তেমন প্রয়োজন নেই
হয়ত সূর্যমুখীর দরকার ছিলো আলো; এখন রাত্রি
এইসব রঙ্গিন খড়পাতা, বিচালি-কাটা বিকেল আর বিষণ্ণ মাঠ-প্রান্তর
থাক
আমি আসমুদ্র থেকে ডাঙ্গায় নিক্ষিপ্ত নৌকো
ডেরা বাঁধবার জন্য বালুনির্মিত ঘাট নিজেই তৈরি করে নেব
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।