T3 || কবিতা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় অর্পিতা মুখার্জী চক্রবর্তী

খোলা চিঠি..পলাশ ঠিকানায়

পলাশ কী জানে মধুমাস কতটা মাতাল হলো?
লালচে কমলা নিবিড় আয়োজন
কতটা আবেশ ছড়ালো
বাসন্তীকার আবেগী মন জুড়ে?
দলছুট বসন্ত পাখিটি মধুময়তায় মুখ গুঁজে
কতখানি দিশেহারা হলো
গুচ্ছ গুচ্ছ পলাশ সোহাগে?
উজাড় করা ফুলের ডালি থেকে
দৃষ্টিমধুর আলিঙ্গনে জড়ালো কতখানি?
বিকিকিনির মেলায় আগুন পলাশ
নেশা ছড়ালো কতটা?
পলাশ নামে উজ্জ্বল অভিলাষ
করপুটে কতশত আলো ছড়ালো
শ্রীপঞ্চমীর পুষ্পাঞ্জলি হতে?
বসন্ত উৎসবে তরুনীর গলা জড়িয়ে,
কানে কানে ‘ভালোবাসি’ বলে দোলা লাগিয়ে,
এলোচুলে পাঁপড়ি বিছোলো
কোন পলাশ মালাটি?
পলাশের রাশি রাশি বাসনার ঘুম ভাঙলো
কোন মালিনীর ডাকে?…..
পলাশের ইন্দ্রজাল ঘোর লাগালো ঋতুর চোখে।
ফাগুন বিভোর হলো পলাশ গরিমায়।
পলাশ উচ্ছাসে রাঙা হলো মধুঋতুর কপোল।
আর বিলিয়ে দেওয়া পলাশ প্রেম
মাঠের গায়ে ,তৃণের ভাঁজে
কান পাতলো মাটির বুকের নিভৃত নির্জনতায়..
নিবিড় আলাপে টুপটাপ এক গল্প হলো তারা।
ঝরে পড়া সেই পলাশ ঠিকানায়
প্রীতির গেরুয়া আবিরে বসন্ত লিখলো
চিরন্তন ভালোবাসার কথকতা।
আলোর মায়া ছড়িয়ে যা জড়িয়ে রইলো
ডালে ডালে,পাতায় পাতায় লাবণ্য হয়ে,
ফাগুন তার নাম দিল বসন্তবাহার।
ঋতুর বৃত্ত ঘুরে ঘুরে আকুল জিজ্ঞাসারা
উত্তর খুঁজেই চলল
উত্তাল বসন্ত অনুরাগের কাছে,
‘পলাশ কী জানে?
পলাশ বিলাসী মধুমাস পলাশ মায়ায়
ঠিক কতটা মাতাল হলো?’….

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।