কবিতায় অর্পিতা মুখার্জী চক্রবর্তী

রেমাল
রেমাল আসার আগে জানাচেনারা নিজস্ব ছন্দে…
বন্ধ সার্সিতেও স্বচ্ছ প্রাণের ছবি…
এরপর ঝনঝন এক হাহাকারের গুঁড়িয়ে নেওয়া।
ভাঙা কাঁচের টুকরোয় ঝড়ের রক্তাক্ত আখ্যান।
চলমান জীবন যন্ত্রণার দস্তানায় মুঠোবন্দী,
বেআব্রু পাল্লায় বাতাস কাতর,
সৌখীন ফুলদানি চৌচির গৃহতলের শীতলপাটিতে।
পেপার ওয়েট থেকে বিচ্ছিন্ন অক্ষর,শব্দ,বাক্য…
এখন যা কিছু,সব খোলামকুচি।
চিরধরা শো-কেসে সজ্জিত মূর্তির বিমূর্ত উপহাস। নষ্টনীড়ে উড্ডীন প্রাণপাখির ছিন্ন পালকগুলি…
উড়ো কিছু শুকনো পাতার ফিসফিস রোজনামচার খাতায়…
ফিরে দেখা ফটোফ্রেমে ধুলোর আস্তরণ।
তারছেঁড়া গুমোট আঁধারে সাঁতরে পথ খোঁজা…
এক দমকে তছনছ হৃদয়ের উপকূল
খড়কুটো ঠোঁটে নিরুচ্চার নিভৃত আর্তি,
ঝড় থেমে গেলে শ্মশানের স্তব্ধতা,
শূন্য মরুভূমির সুদীর্ঘ এক যাত্রাপথ।
তবুও ‘ফটিক জল’ তবুও দিগন্তে আলোর রেখা,
মরচে ধরা মন সিন্দুকের ভগ্নাংশটুকুর উদযাপন তাও প্রতি পলে, অনু পলে…
রেমাল ও রেমালের মতো ঝড়েরা
নিয়ে যায় অনেককিছুই…
সমুদ্রের ফিরতি টানের মতো ঘুরে আসেনা আর।
লুটতরাজ যা কিছু , তবুও ঘুরেফিরে বসত করে
হৃদয়তটের গহীনে কোনো এক ঝড়ের ডাকনামে।