মুক্তগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

ওই দেখ, দরিয়ায় ভেসে যাওয়া নৌকার গলুইয়ে বসে আছে সে। প্রবল হাওয়ায় পাল খাটাতে নাকাল মাঝির পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করছে সে। প্রতিদিন সকালে কানের কাছে মুখ নিয়ে ডাক দিয়ে যায় সে। নাম তার ‘মুক্তি।’ আমি অনুভবেই পাই তাকে। পাই লালন শাহের গানে, রাখালের বাঁশিতে, বালুকাময় তটে বহমান হাঁটু জলের নদীর কলধ্বনিতে, টিট্টি টি পাখির অবিরাম ডাকে, দিগন্ত জোড়া পর্ণমোচী জঙ্গলে, কিম্বা সমুদ্র তটে মাছ শুকানোর ঘ্রাণে অনুভব করি তাকে। মেঘলা হোক বা নীল, আমার আকাশ জুড়ে সে। চারটে চড়ুইপাখির ধুলোয় হুটোপুটিতে মিশে থাকে সে। বাবার হাত ধরে ইস্কুলে যাওয়া বাচ্চাটির চোখের তারায় মিশে থাকে সে। আমি জানি সবার মুক্তির চেহারা আলাদা। কারণ সবার মুক্তি খুঁজে নেওয়ার পটভূমি ও দিগন্ত আলাদা। আমরা কেউ কারও প্রতিচ্ছবি বা প্রতিধ্বনি নই। এই ভিন্নতাটুকু বেঁচে থাক।