অনুগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

বিল বৃত্তান্ত
ডাকাতিয়া বিল। নামেই শিহরণ। তবে সৌন্দর্যে বঙ্গবালার মতোই রূপসী। খুলনার উত্তর পূর্বাঞ্চলে তিরিশ হাজার একরের এই বিলের জল আলো করে শাপলা ফোটে। ডানা ঝাপটায় পানকৌড়ি। ঠোঁটে মাছ নিয়ে উড়ে যায় মাছরাঙা। বিলের ধারে জলে কাদায় চরে বেড়ায় জলমুরগি। কোনও দিন এই বিলের কিনারায় গিয়ে দাঁড়াতে পারিন।বাংলাদেশের এই সব বিলের মুখ দেখি ফেসবুকের পাতায়। তাদেরই একটি নওগাঁ জেলার হাঁসাইগড়ি বিল। কী সুন্দর নাম। জল থৈ থৈ বিলের মাঝখান দিয়ে রাস্তা। তবে সব থেকে মুগ্ধ করেছে নাটোরের চলন বিলের ছবি। ১১৫০ বর্গ কিলোমিটারের এই বিল ভারতীয় উপমহাদেশের সব থেকে বড় বিল। রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ভাগ হয়ে থাকা চলন বিলের মধ্যে দিয়ে আত্রাই সহ আটচল্লিশটি নদী প্রবাহিত। বড়াল নামে একটি নদী চলন বিলের অতিরিক্ত জল নিয়ে গিয়ে যমুনা নদীতে ফেলে। জলজ গাছপালা, জলজ ফুল, বিলের মাছ, জলচর পাখি, কীট পতঙ্গ ও চলন বিলের আশেপাশে বাস করা মানুষকে নিয়ে গড়ে ওঠা জীব বৈচিত্র্য না দেখেও বলাযায় তা অপরূপ। যেমন রূপময় মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিল। এক পাশে পদ্মা অন্যপাশে ধলেশ্বরী নদী। মাঝে আড়িয়াল বিল বর্ষায় ডুবু ডুবু আর শীতে সর্ষে ও মিষ্টি কুমড়োর খেত। আরও কত বিল রয়েছে। তামা বিল, হালতি বিল, মান্দার বিল………. কী রকম স্বপ্নময় মনে হয় নামগুলি। এই সব বিলের ছবি দেখতে দেখতে মন পাখি হয়ে যায়। কাঁটাতারের বেড়ার উপর দিয়ে উড়াল দেয় বিলের জলে ডানা ভেজাতে। বিশ্ব জল দিবসের সকাল বেলা কামনা করি, পূর্ব বাংলার বিলের জলে ভিজুক পশ্চিম বাংলার মন।