অনুগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

‘মাটি‘
‘ জলের নীচে থিতিয়ে আছো তুমি / আমার জলে জলেই কেটে যাবে দিন / জলের নীচেই থিতিয়ে থাকবে তুমি / মাটি, আমার স্বপ্ন অন্তহীন।’ হ্যাঁ, জীবন মানে মাটি ও জলের কাব্য। এই মাটি আমার প্রতি মুহূর্তের সাধনা। সে মাটি দক্ষিণবঙ্গের লাঙলহাটার। সে মাটি ঝাড়খণ্ডের আমলাঘুটুর। সে মাটি ত্রিপুরার সোনামারার, সে মাটি উত্তরবঙ্গের মৌয়ামারির, সে মাটি বস্তারের অবুঝমাড়ের। মাটির মতো আপন আর কেউ হয় না। সেই মাটির বুকে জল ধারণ করতে পারলে আবাদে সোনা ফলবে। খিদের অন্ন জুটবে। গাছপালা, লতাগুল্ম জন্মাবে। এই ধরিত্রী রসবতী হবে, প্রাণদায়ী হবে। মাটি ও জল সংরক্ষণের মাধ্যমে সেই সুখের দিগন্ত আঁকার প্রকল্পের নাম জলবিভাজিকা উন্নয়ন প্রকল্প। অজয় ও দামোদর নদের অববাহিকায় জলবিভাজিকা প্রকল্প নিয়ে তথ্যচিত্রের শুটিং করতে পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনির দিকে যাত্রা শুরু করছি। তার আগে পায়ের নীচের মাটি স্পর্শ করে বলি, তুমি আছো তাই আমি দাঁড়িয়ে আছি। আকাশের দিকে তাকাতে পারছি। বলি, ‘জলের নীচেও থিতিয়ে আছো তুমি / জল সরলেই মিহিন রোদের মুখ / রোদ ছুঁয়ে যায় তোমার কাদা মাটি / আমার বুকে দানা বাঁধে সুখ।’