।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় অনুপ মণ্ডল

পাখি-স্থাপত্য
দহে পড়ে হ্যাঁচোরপ্যাচোর। বিকলাঙ্গ রাস্তা ও পথশ্রম
গাছটাও কেমন যেন থমকে দাঁড়াল
মগডালে বাঁধা সূর্য
নীচের ডালটাতে বাসি কমলা লেবুর গন্ধে
আধখানা চাঁদ ও মর্মন্তুদ পাখনামেলা আধখানা পাখি
পরস্পরের কর্পুর হয়ে
ভোর রচনা করেছে
সসপ্যানে পুড়ে যাচ্ছে ডিমের কুসুম
সকাল হচ্ছে পাখিদের গ্রামে। ধোঁয়ার কারসাজি নয়
ধোঁয়াও মাতাল ছিল; ধোঁয়াশা ছিল না
আমি পিপীলিকাদের শতকোটি পায়ের পদধূলি নিয়ে
সেই পরিত্যক্ত গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছি একা
ক্ষমাহীন
চোখের নীচে মরা মন, ছায়াময় স্থপতির ধ্বংসাবশেষ
আগাছার জন্মকথা
উপ্ত সন্ন্যাসের উর্দ্ধবাহু ; দু-এক পশলা বৃষ্টি
অতঃপর অস্তিত্বের বেঁকে যাওয়া মোরগ
কোথাও কিচ্ছুটি নেই
বনস্পতির লগবুকে লিপিবদ্ধ আছে
আগাছার জন্মকথা
আঙুলের গলায় গলায় চেনা অচেনা ঘাস
কুয়াশার আড়ালে
বারবার ভোঁ বাজা জাহাজের মতো
আমিও পিতৃপরিচয়ের ডাঙা খুঁজিতেছি
নরম পলিতে
হরিণ শাবকের আলতো পায়ের ছাপ
দ্রুততর হতে হতে মিলিয়ে গেছে যেখানে
তাকে কোনও এক অবৈধ শিশুর
পদবি ভেবে বসি
ছোট ছোট হাতে তুলে নিই
বিকেলের ম্লানময়ী আলোর বিলোল আঁধার