T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় অমৃতা মল্লিক

অতি সাধারণ উমার গল্প!!
“উমা, ভাইকে একটু দেখতো।“
“ঘরটা চটপট গুছিয়ে ফেলতো। কাজ শিখে রাখা ভালো। তাছাড়া বাড়িতে লোক আসছে।“
“আজ তরকারিটা দারুন রেঁধেছিস।“
উমা কবে থেকে দায়িত্ব নিতে শিখে গেছে। এখন হ বললে হাওড়া বুঝে যায়। সবাই কতো প্রশংসা করে। গর্বে মায়ের বুক ফুলে ওঠে।
বিয়ের ভাগ্য ভালো উমার। মা-বাবাকে বেশি বেগ পেতে হলো না। এরকম মেয়েকেই তো সবাই নিজের বাড়ীর বৌ করতে চায়।
কিন্তু, কিছু বছর বাদ থেকে শুরু হলো অশান্তি। উমার স্বামী প্রায়ই তার মায়ের কাছে অভিযোগ করে। তার বক্তব্য, উমা ঘরের কোনো কাজ করতে চায় না। সবসময় মুখ হাঁড়ি করে বসে থাকে।
“তুইতো এরকম ছিলি না। দেখ! তোর জন্য যেন আর কোনো ঝামেলা না হয়।“
স্বামী তো সারাক্ষন মাথা চাপড়াচ্ছে,
“এই জন্য না রোদে -গরমে বাইরে কাজ করতে হয়। তোমারতো সে মুরোদও নেই।“
হটাৎ একদিন স্বামীর সামনেই সে মেঝেতে পড়ে গেলো।
“আমার মাসের শেষ। আর এই সময়ই তোমার যত নাটক। কাজ না করবার নিত্যনতুন বাহানা খোঁজো।“
উমা এর পরেও যখন চোখ খুললো না, তখন তরিঘড়ি করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।
ডাক্তারের চেষ্টায় তার জ্ঞান ফিরলো।
“দশভূজা হতে গিয়ে নিজের সারল্য আর স্বপ্ন হারিয়ে ফেললাম। আমার বিসর্জন হলে তোমাদের এবং আমার-উভয়পক্ষেরই ভালো।“
সে চোখ বুজলো।
বাইরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মায়ের আগমনী সংগীত শোনা গেলো।