অণুগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

ও নদী রে
মানুষ যদি নদীর মত হত! আরে, মানুষ তো নদীর মতই। নারীকে নদীর সঙ্গে তুলনা করার থেকে জীবনের সঙ্গে তুলনা করা অধিক সঙ্গত। সে জীবন পুরুষেরও হতে পারে, নারীরও হতে পারে। জীবন প্রবহমান, তাই সে নদীর মত। আমি নদী খুঁজি। হ্যাঁ, প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে আমি নদীই খুঁজি। জীবনে বহু মানুষ দেখেছি যারা খুব আকর্ষণ করে, তেমন নদীও দেখেছি অনেক। সারাণ্ডা অরণ্যের শীর্ণতোয়া রাধা নদী হোক বা বস্তারের দারুণ বন্য নিব্রা নদী। কেওনঝরের রানিমা নদী হোক বা উত্তরবঙ্গের তোর্সা। ঠিক জীবনের মত প্রবহমান। তবু আলাদা করে একটি নদীর কথা বলব, তার নাম হলং। ডুয়ার্সের বল্লালগুড়ির কাছে মাঠ থেকে চুঁইয়ে বেরনো জলে যার সৃষ্টি তার মত বন্য নদী খুব কম দেখেছি। তার প্রতিটি বাঁকে রোমাঞ্চ। প্রতিটি বাঁকে সে অধিক বন্য। এই হলং নদীর কিনারা ধরে, কখনও জলে পা ভিজিয়ে একের পর এক বাঁক পেরিয়ে গেছি। জল ঘেঁষা ভিজে মাটিতে হাতি, বাইসন, গণ্ডার, হরিণ, ময়ূরের পায়ের ছাপ দেখেছি। তবু যেন তাকে আবিষ্কার শেষ হয় না। আমি মাটিতে পা রেখে হলংয়ের সঙ্গে যত হেঁটেছি, মনে মনে হেঁটেছি তার বেশি। আমার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, প্রতিটি মানুষ নিজের ভিতর একটি নদী আঁকুক। নদীর মত প্রবহমান হয়ে উঠুক। জীবনের প্রতিটি বাঁকে বেঁচে থাক রোমাঞ্চ। যাতে সেই রোমাঞ্চ আবিষ্কার করে কেউ নিজেও নদী হয়ে বয়ে যেতে পারে। আজ আমার সকাল হল হলং নদীর হাঁসুলি বাঁকের কাছে। জানি না জীবন নদী তার বাঁকে আমার জন্য কোন রোমাঞ্চ এখনও গচ্ছিত রেখেছে, আমি কিন্তু তার সন্ধানে হেঁটে চলেছি অবিরত।