নিয়ন আলো জ্বলছে গলির শেষ প্রান্তে। আলোর নীচে নিজেকে লাল মনে হয়। মনে হয় রক্ত মেখে দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তা দিয়ে লোকজন গেলে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। আমি পাশের বাড়ির মেয়েটাকে দেখি।
মেয়েটা বাড়িতে বন্দি। বন্দি ওর চিন্তা। বন্দি ওর মনন। মেরুদন্ডটা ঝুঁকে থাকতে থাকতে ক্ষয়ে এসেছে। ও চেয়ে চেয়ে নিয়ন আলো দেখে। আমাকে দেখে। একমাত্র ওই জানে রক্ত মাখলে আমাকে কতটা সুন্দর দেখায়!
“Life’s but a walking shadow, a poor player, that struts and frets his hour upon the stage, And then is heard no more…”
আবৃত্তি করতে করতে এগিয়ে চলি। নিজেকে মঞ্চাভিনেতা মনে হয়। নাটকীয় ভঙ্গিতে ঘাড় তুলে আকাশের দিকে চেয়ে অট্টহাস্য করি, কিন্তু আমার হাসি গলির বাইরে পৌঁছায় না। হাঁটতে হাঁটতে মঞ্চ শেষ হয়ে যায়,উইংসের ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে খাদ জরিপ করে নিই। সব ধ্বংস হওয়ার পর কবর খুঁড়বো, জায়গা হয়ে যাবে মনে হয়…
বাড়ির আত্মীয়রা বলে মাঝেমধ্যে বাড়িতেও তো ফিরতে পারিস। আমি ভাবি শুধু বাড়ি আসাকেই কি ফেরা বলা যায়? আমি তো নিয়ন আলোর ফিলামেন্টে আস্তানা দেখতে পাই। ব্রহ্মাণ্ডের অসীম রহস্য যদি ওই আলোক ধাঁধায় লুকিয়ে থাকে, তবে আমিই আবিষ্কার করবো। আশায় আশায় বেঁচে থাকি ডাস্টবিনের মত…
এদিকে আলোর শিকড় শেষ হয়ে আসে। আচমকাই শিকড় ছিঁড়ে অন্ধকার নামে। যুদ্ধের দামামা শুনতে পাই। চায়ের দোকানে খুচরো পয়সা ফেরত নিতে যাই। যুদ্ধ শুরুর আগে পালাতে হবে কারণ আমি সৈনিক হতে চাই না। আমি যুদ্ধ দেখতে চাই গ্যালারিতে বসে।
তলোয়ারে শান দিতে দিতে যুবতী তাকায় আমার দিকে। চোখে ইঙ্গিত কিন্তু হাতে তরোয়াল। লম্পট আমিটা পাজামায় গিঁট দিয়ে এগোই। মৃদু হাওয়ায় নিয়ন আলোর বাল্ব দুলতে থাকে। গাছের ছায়া কেঁপে কেঁপে উঠলে সান্ত্বনা দিই,