T3 || ১লা বৈশাখ || বিশেষ সংখ্যায় আলোক মণ্ডল

সমাপতন

এমনই এক বাদলা দিনে মেয়েটিকে বারান্দায় রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম। সে প্রায় ছ’-সাত বছর আগের ছবি।তার চোখের লাজুক চাউনি বুকে ঢেউ তুলেছিল, গলা ঠেলে রেরিয়ে এসেছিল গান, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘন ঘোর বরিষায়…’
তারপর কত বৃষ্টি দিন এল,কত দিন চলে গেল!

রেলিংটি আছে, মেয়েটি নেই।

বহুদিন পর আজও অঝরে জল, অক্ষরহীন বরষায় পৃথিবী ভাসছে, সেদিন জলের ভাষায় কথা ছিল। আশ্চর্য, এই ভাষাহীন অঝর বরষায় আজ আবারও সেই মেয়ে এসে দাঁড়ালো রেলিং ধরে, তার কাজল চোখের চাউনি ঠিক আমারই দিকে।
বৃষ্টি ফোঁটার সাথে সাথে পড়তে লাগল বহুদিনের না- বলা কথা,বেজে উঠল বুকের ভেতর বহু যুগের অবরুদ্ধ গান! মেয়েটির আজও আমাকে মনে আছে!ও কি আমাকে এখনও চায়, সেই লাজুক আহ্বানে!

হ্যাঁ, তাইতো,তাইতো, সেই লাজুক চোখ,সেই চোখের না-পড়া ভাষা! বুকের ভেতর শুরু হোল ঝিরি বৃষ্টি,ফোঁটা জল,গলা ঠেলে বেরিয়ে এল সে দিনের সেই না-গাওয়া গান!সেই আকুতি ভরা মুখ,সেই বৃষ্টি ভেজা উড়ো চুল! না,আর থাকতে পারলাম না,অগ্রাহ্য করতে পারলাম না সেই লাজুক চোখের আহ্বান, সমস্ত লজৃজা -সংকোচের জাল ছিঁড়ে ছুটে গেলাম ভেজা ঘাসে পা ফেলে জল ছপছপ তার কাছে।বুকের ভেতর দ্রুত ওঠা-নামা করতে লাগল হাফর, মনে হল যেন আমি নদী,জল-থৈ ঝাঁপিয়ে পড়ব সাগরে!

মেয়েটিও এগিয়ে এল সমস্ত সঙ্কোচ দূরে ফেলে! উদ্বিগ্ন স্বরে বলল, এই,এই, ওষুধ গুলো একটু আনিয়ে দিবেন, ওর ভীষণ শরীর খারাপ, একা মানুষ কী যে করি!

বুকের ভেতর হাফর গেল চুপসে, পানসে মুখে বললাম, কই দেখি…!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।