T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় অমিত মুখোপাধ্যায়

আমার উমা

 

 

প্ল্যাটফর্ম। প্রচুর ব্যস্ততা। পঞ্চমীর সকাল। পরমা পরিবারের কাছে চলেছে। জানলার ধারে বসতে পেয়েছে। দেখছে বাঁধানো চত্বরে উনুন বানিয়ে ছিন্নমূল মহিলা রান্নায় মগ্ন। পেছনে রান্না করে আরও দু’একজন। একটু দূরে থামের গায়ে এক ছিটে জায়গায় ছেঁড়া জামা পরা বড় মেয়ে তার বোনকে গামছা পরায়। অনেক চেষ্টায় গিঁট দিতে পেরেছে। এবার পাক দিয়ে কোমর ঘিরে কেমন ভাবে পরালে শাড়ির মতো হবে, তা বুঝতে পারে না। এদিক ওদিক করে। মায়ের দিকে তাকিয়ে কী বলে।

ওদের দুই পাশে জনস্রোত। মা-কে বলে লাভ নেই বুঝে ফের নতুন করে চেষ্টা চালায় বড়। ছোটটি মেক-আপ রুমের নায়িকার মতো দিব্যি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে! ভিড়ে যে ওরা অভ্যস্ত তা বোঝা যায়। অনেক কসরত করে গামছাকে প্রায় শাড়ির মতো করে জড়ায় বড় মেয়েটি। তারপর নিচে কুচি করার মতো ভাঁজ করতে থাকে।

পরমা খেয়াল করে ট্রেনের আরও অনেকে এই সজ্জাপর্ব দেখছে। কি করবে, ট্রেন লেট করছে! সাজ শেষ করে বড়টি ভালো করে বোনের দিকে তাকায়। বোন দুই হাত দিয়ে আদর করে দিদিকে। দিদি কোথা থেকে আনা সোনালি কাগজের মুকুট পরিয়ে দেয়।

ওদিকে রান্না শেষ। পেছনের বৌটির কাছে হাঁড়ির দায়িত্ব দিয়ে মা আসে। তার হাতে চুমকি বসানো ওড়না, ছেঁড়া অংশ দেখা যায়। বড়টির গলায় যত্নে তা জড়িয়ে দিয়ে মা বলে, জলদি চল ইবার পুজার হোই দিকে! বাদ্যি বাজে যে!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।