মুক্তগদ্য তে অমিত মুখোপাধ্যায়

মরা নদী
বুড়িকে জিজ্ঞাসা করি, ও বুড়ি তোমার যৌবনের কথা মনে পড়ে? বুড়ি নিরুত্তর থাকে। হ্যাঁ, বুড়ি ডিহিং, বুড়ি তোর্সা, মরা কালজানি, কানা দামোদর, এমন কত নদী আছে। এক সময় সেই ধারাই ছিল মূল নদী। পরে প্রকৃতির খামখেয়ালে ধারা সরে যায়। পড়ে থাকে তার পুরনো খাত। সেটি তখন বিল, মজা নদী বা শীর্ণ ধারা। তারই নাম বুড়ি নদী, বুড়া নদী, মরা নদী, কানা নদী। উত্তর-পূর্বের অসম, বাংলার তরাই-ডুয়ার্সে, এমনকী দক্ষিণবঙ্গে দেখেছি এমন বহু মরা নদী, বুড়ি নদী, কানা নদী। সবার একই গল্প। এ যেন শরীর থেকে আত্মাটা বেরিয়ে যাওয়া। ঠিক মানুষের মতো। কিন্তু মানুষের প্রাণহীন শরীর পুড়ে যায় বা মাটি হয়। নদীর বিষয়টা একটু আলাদা। বেরিয়ে গিয়ে পৃথক শরীর নেওয়া। এবং অল্প দূরে বহমান থাকা। আচ্ছা মানুষও যদি পুরনো শরীর ছেড়ে নতুন শরীর নিত ও পুরনো শরীরের কাছাকাছি থাকতো! তার কি পুরনোর কথা মনে পড়তো? কিম্বা পুরনো শরীর কি ডুকরে উঠতো নতুনকে দূর থেকে দেখে? আমি কিন্তু দেখেছি বুড়ি নদী, মরা নদীরও প্রাণ আছে, মন আছে। তাই তার বুকে কচুরিপানার বেগুনি ফুল ফোটে। শালুক, পদ্ম ফোটে। মাছেরা সাঁতার কাটে। তাই বার বার অমন নদীর পাশে গিয়ে দাঁড়াতে চাই। সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে সেই সব মানুষের সঙ্গে, যাদের মন মরে গেছে, আত্মা ধুঁকছে। বলতে চাই, মানুষের মরা মনেও প্রাণের ছোঁয়া লাগুক।