অনুগদ্যে অমিত মুখোপাধ্যায়

আম্রমুকুল
আম্রফুলের সুগন্ধের মতো সকাল। দুব্বো ঘাসে শিশিরের মতো সকাল। কাঁচা আদার গন্ধ মাখা সকাল। ইতিহাসের গুরুগ্রাম এখন চক মিলানো শহর। তবু গুরুগ্রামের সকাল দেখে আম্রমঞ্জরী, দুব্বো ঘাস, কাঁচা আদার কথা মনে পড়ল। মাঝে মাঝেই সকাল আসে নানা রকম ঘ্রাণ নিয়ে। গুরুগ্রামে আছে মহাকাব্যের ঘ্রাণ৷ জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠির এই গ্রামটি দক্ষিণা দিয়েছিলেন গুরু দ্রোণাচার্যকে। তাই এটি গুরুগ্রাম নামে পরিচিত। যা অপভ্রংশে গুরগাঁও হয়েছে। এই গুরগাঁও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, তৃতীয় বৃহত্তম আর্থিক কেন্দ্র। সম্পদের দিক থেকে দেশের অষ্টম ধনী শহর গুরুগ্রাম। এই গুরুগ্রামেও বসন্ত এসেছে। শিমুল ফুটেছে হর্ম্যরাজির মাঝে মাঝে। আর আমি যেখানেই থাকি আমার বসন্ত মানেই রবি ঠাকুরের গান। ‘বসন্তে ফুল গাঁথলো আমার জয়ের মালা।’ প্রাণে দখিন হাওয়া বইতে থাকে। সেই হাওয়ারও গন্ধ আছে। বসন্তে বদলে যায় ইট, কাঠ, পাথরের কাঠখোট্টা গন্ধও। হ্যাঁ, গন্ধ আছে নরম সকাল, জ্বালা ধরা দুপুর, মন উতলা বিকেলের। অনেকটা মানবীর ঘ্রাণের মতো, সময়ের সঙ্গে যা বদলায়। সব ঘ্রাণ মিলে যায় বেঁচে থাকার ঘ্রাণে। কিম্বা জীবন গন্ধ চয়ন করে বাঁচে। যাতে কেটে যায় যাবতীয় অসুখের ঘ্রাণ।