মুষলপর্বের বৃষ্টি নামার পর নির্বাসন দিলাম মাটি
তুমি এখন জল দেখে পা ফেলবে আমি বাতাস দেখে হাত
হাঁটুতে বেড়ে উঠবে জলস্তম্ভ ।
গোটা মানচিত্র ডুবে গেলে তার কোনো এম এল এ, এম পি থাকে না
এমনকি পঞ্চায়েত মেম্বারও
তার জল আগলে পড়ে থাকে মাটির গভীরে।
গভীরে কোনো দেশ, কোনো উপত্যকা
কোনো একটা জন্মভূমি
গলায় সাইরেন বাজিয়ে খুঁজে ফিরছে বধ্যভূমির মুখ৷
তুমিই বলো, এই যে বর্ষাকে ডেকে নিয়ে এলাম ভিন গাঁ থেকে
তার আপ্যায়ন পর্ব তো বেশ ভালোভাবেই সারা হলো
সে একে একে খেয়ে গেলো গ্রামের পর গ্রাম
মানচিত্রের পর মানচিত্র
ঢেকুর তুলে বলে গেলো, কুম্ভতে কোনো অমৃত থাকে না ।
নীল রঙের তুলি আঁচড় কেটে মুখ বড় করে ফেললেও
আমরা বসতিস্থল পেয়ে গেছিলাম কৃষ্ণগহ্বর খুঁড়ে
কৃষ্ণকে হাত করা সহজ
কিন্তু এক ধাক্কায় ছিপে তুলতে গেলেই
টোপ ফেলতে হয় কংসের মতো কোনো রাজমুকুট গেঁথে।
মনে রেখো অবিরাম বর্ষণমুখর রণক্ষেত্রে
নূপুর বেজে ওঠা মানেই গোকুলের গোষ্ঠ উৎসব নয়
জলেরও মতিভ্রম হয়
মতিরও জলভ্রমণ শুরু হতেই পারে।
এই যেমন আমাদের কথাই ভাবো
গুগুল থেকে ধার করা জলের গড় কষতে কষতে শেষ পর্যন্ত
মেপে দিলাম বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। আর তাতেই
কাব্যগ্রন্থের শেষ পাতায় সামান্য মাটি পাওয়া কবি পরিচিতি
হাঁটুতে শল্যচিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে
মাথা নীচু করে নেমে গেলো কবিতা গ্রন্থ থেকে।
নেমে গেলো অনেক সিঁড়ি, গিরি, খাদ, খাদক পেরিয়ে
বলো তো সে কি আর কখনও লিখতে পারবে বৃষ্টি অভিসার ?
হয়তো লিখবে, কিন্তু যে জলে ভেসে যায় নির্বাসিত মাটি
তার একটা ছোট্ট ডাকনাম থাকলেও
প্রেজেন্ট প্লিজ বলার মতো মুখের হাঁ তার কিন্তু আর থাকবে না।
এরপরেও ঈশপের বাঁশি বাজাবে তুমি, কৃষ্ণও ডাকবে তার গোপিনীদের
আমিও বাজিয়ে দেবো গ্রামীণ শঙ্খ, সন্ধ্যা নামবে নীপবনে
বর্ষার ট্রাফিকে ঋতু থেমে থাকলেও
এই চক্রেই বাতাসে বাতাসে ডুবে যাবে আমাদের হাঁটু বৈচিত্র।
আর সেই পশরা সাজিয়েই
পরের মন্থনে কোনো সমুদ্র হয়তো বেচে দেবে অমৃত কলস
যা নিজের শরীরে দুরারোগ্য লিপি ধরে রাখলেও
এতটুকু মাটি ধরে রাখতে পারেনি পায়ের নীচে৷
পায়ের ওপরে জল। জলের ওপরে বাতাস
আর বাতাসের ওপর দিয়ে বইছে ফিনফিনে রাতের কণ্ঠস্বর।
এটা জলের শব্দ নয়
অনিবার্য জল পতন শেষে
নিশি ডাকছে। নিশ্চিত নিশি ডাকছে রাতের প্রস্তুতিপর্বে
অনেক মানুষের কণ্ঠে তারা ডেকে চলেছে
মানুষ ছাড়াও গাছপালা নদী জল পশু পাখির কণ্ঠ ডেকে চলেছে
তুমি কিন্তু আমার গলা শুনলেও
কোনোভাবে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসো না এই কণ্ঠ সংকলনে