T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় অলোক মুখোপাধ্যায়

ছিয়াত্তরের বোবা বুড়ো
-কি বন্ধু মন খারাপ?
বুড়োটা ঘাড় ঘোরায়। আশে পাশে কেউ নেই! পিছন থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস কানে আসে। বুড়োটা গলা চড়ায় -কে হে তুমি! আমার মতো তুমিও যে নিরাকার সেটা বুঝতে পারছি। তবুও পরিচয়টা দাও, দেখি চিনতে পারি কি না!
-আরে দাঁড়াও একটু জিরিয়ে নিই। তোমার থেকেও শত সহস্র হাজার বছর বেশি আমার বয়স। আমি হলাম ইতিহাস, চির অক্ষয় অমর। একশো ছুঁতে তোমার এখনও প্রায় সোয়া কুড়ি।কি ঠিক বললাম তো?
-হবে হয়তো!
-কেন? তোমার বয়স এখন কত সেটা বললেই হিসেব মিলে যাবে।
-মনে নেই
-সে কি! বুড়ো হয়েছ বলে নিজের বয়স মনে থাকবে না?
-বয়স মনে রাখার দায় আমার নেই, যাদের দরকার তারা রাখবে।
-সব কথায় এত হেঁয়ালি কেন গো তোমার!
-কিসের হেঁয়ালি! বয়স বাড়লে একটু অভিমান হয় সেটা বোঝ?
-তাই বলো……বেশ, তোমার লাস্ট বার্থ-ডের তারিখটা যদি বলো আমি তোমার বয়স ঠিক বুঝে যাব।
-এটা যদি সেপ্টেম্বর হয় তাহলে আগের মাসের মাঝামাঝি কোন একটা দিন।
-এক সেকেন্ড! আগের মাসের মাঝামাঝি মানে তারিখটা কি ফিফটিন্থ?
-সেটা এপারে, পাহাড়ের ওপারে হয়েছিল ফোরটিন্থ।
-তুমি তো জিনিয়াস বস্। ওপারে তোমার জড়ুয়া আর এপারে তুমি!
-আমার কোন জড়ুয়া নেই। কোনদিন ছিলও না। আমি একটাই ছিলাম। আমাকে কেটে দুভাগ করা হয়েছে। আর বয়সের কথা যখন তুললে তখন বলি ওটা ছিল আমার সেভেন্টিসিক্সথ বার্থ-ডে।
-জানি বন্ধু জানি, আর সেই জন্যই তো ছুটে এলাম তোমার সাথে গল্প করব বলে। পাহাড়ে বসে মন খারাপ না করে চলো একটা চক্কর মেরে আসি। এই আমি ডানা মেলছি। চটপট আমার পিঠে উঠে পড়।
ইতিহাস উড়তে থাকে গ্রাম থেকে শহরের প্রতিটি প্রান্তে। বুড়োটা চোখ আর কান খুলে ইতিহাসের পিঠে বসে সব কিছু দেখতে থাকে। তারপর পাহাড়ের মাথায় ফিরে মুখোমুখি বসে একের পর এক প্রশ্ন করে ইতিহাস। বুড়োটা কোন উত্তর দেয় না। সব দেখে শুনে ছিয়াত্তরের বুড়োটা এক্কেবারে বোবা।