ক্যাফে কাব্যে অমিতা মজুমদার

কবি
মেঘলাদুপুর রোদটা কেমন আধমরা মাছের মতো শুয়ে আছে উঠোন জুড়ে,
চারপাশের গাছের ছায়াগুলো অশরীরি প্রেতাত্মার মতো দুলছে।
নব্যকবি কবিতা লিখবে বলে বারান্দায় বসেছে আরাম করে,
টেবিলে ল্যাপটপ খোলা পাশে ধুমায়িত কফির মগ।
কবি নিজেকে জীবনানন্দ ভেবে লিখতে চায় তাঁর মতো করে,
শব্দেরা বিভ্রান্তির জাল বুনে চলে তার মনে।
তাই লেখা হয় না “এখানে প্রাণের স্রোত আসে যায়—সন্ধ্যায় ঘুমায় নীরবে” র মতো কবিতা।
মেঘ ক্রমশ গাঢ় হয়ে আসে এই বুঝি সন্ধ্যা নামে,
কবি রবিঠাকুরের মতো লিখতে চায়
“যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে,. সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া…”
হয় না কিছুই হয় না!
হঠাৎ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে,
কবিকে উঠে পড়তে হয় সব গুছিয়ে।
ঠিক তখন কবির মনে পড়ে একটা শ্বেতপাথরে বাঁধানো সমাধি,
যার গায়ে লেখা আছে..
খুব সাধারণ আমি কবি হতে চেয়েছিলাম।
চাইলে অনেক কিছুই হওয়া যায় কিন্তু কবি হওয়া যায় না।