কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে আবুল খায়ের নূর

মুক্তিবার্তা
পাঁজর ভেঙে মা বলেছিলো – খোকা তুই কই যাস!
আমি যে তোরে হারাতে চাইনা বাছা!
মিনতি ভরে খোকা বলেছিলো
মাগো, তুমি কি দেখোনি?
চারদিকে শেয়াল শকুনে
খুবলে খাওয়া বিভষ্ম লাশ আর লাশ
আমি তো সইতে পারছিনা আর,
মৃত্যুর হোলিখেলা
আমাকে ছেড়ে দাও,
আমাকে যেতে দাও
আমাকে যেতেই হবে মা,
স্বাধীনতা যে আমায় ডাকছে
আমি না গেলে,
আসবে কিভাবে সে
তোমার মিনু তো থাকলোই তোমার বুকে
যুদ্ধই যে এখন মুক্তির পথ,
তাকে পাওয়ার জন্যই তো যাচ্ছি মাগো
তুমি আশির্বাদ করো
মা বুঝলেন,
বৃথাই সব,
মাতৃভুমির কাছে,মায়ের কোল আজ ঠুনকো
তাই;
মাথায় হাত বুলিয়ে কৃত্রিম হাসি হেসে
খোকা কে বিদায় জানালো
জ্বেলে রাখলো হৃদয়ে, ঘরে ফেরার দীপশিখা
নিশ্চয় খোকা ফিরবে এক দিন তার বুকে
দেশ স্বাধীন হলো
পাখিরা খুঁজে নিলো,
যার যার ঘর
ফিরলো কত যোদ্ধা সৈনিক আপন পরিবারে
শ্মাশাণ বিরান মায়ের বুকে
তার খোকা তো ফিরলো না আজও
অপেক্ষা আর কত!
অশ্রুসিক্ত বিধ্বস্ত
বিষণ্ন এক মা দাওয়ায় বসে পথ চেয়ে থাকে
কখন তার খোকা ঘরে ফিরবে
সন্তান হারা মায়ের বেদনায় ভর করেই তো
হেঁটে এলো সবুজ শ্যামল বসুন্ধরা
মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো লাল সবুজের পতাকা
জানিয়ে দিলো পূর্বাকাশে ভোরের রক্তিম সূর্য
মহা মিলনের মুক্তিবার্তা।