বাংলা ভাষা ধমনী-শিরায়, জুড়ে আছে সারা মন,
হৃদয়ে কান পাতলে পরে, শোনা যায় তার স্পন্দন।
এই ভাষাতে মেটাই আমরা মনের যত আশা,
প্রকাশ করি সুখ-দুঃখ, ঘৃণা-ভালোবাসা।
যখনই এই ভাষাকে কেউ করেছে কলুষিত,
প্রতিবাদে বাঙালী তখনই হয়েছে মুখরিত।
দিনটি ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২ সাল,
ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমায়েত বিশাল।
বাংলা ভাষাকে দিতে হবে রাষ্ট্রীয় সম্মান,
জোরদার দাবী তুলল বরকত, সালাম,
রফিক, শফিউর সাথে জব্বার,
ছাত্র-জনতা মিলেমিশে একাকার।
এলোপাথাড়ি চলল গুলি তাদের উপর,
তাজা প্রাণগুলি হল নিমেষে নিথর।
সেদিনের ঘটনায় আজও কাঁপে অন্তর,
রক্তের বিনিময়ে কেনা হয়েছিল অক্ষর।
পদ্মা-মেঘনা পাড়ের এই ভাষা আন্দোলন,
গঙ্গা-ভাগীরথীর পাড়ে’ও তুলেছিল আলোড়ন।
“ইউনেস্কো” এই দিনটিকে দিয়েছে সম্মাননা,
“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসাবে হয় এটি মানা।
শুধু বাঙালীর কাছে নয়, এটি এখন সর্বজনীন,
দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সুদূর নীলিমায় লীন।