কর্ণফুলির গল্প বলায় আলমগীর কবীর হৃদয়

স্বামীর বান্ধবী

প্রতিটি গল্পই চলমান জীবনের চালচিত্র, এ গল্পের শিরোনাম দেখে কেউ কৌতূহল প্রকাশ করবে। কেউ ভাববে এটা চলমান জীবনের একটা অতিসাধারণ বিষয়। মানুষ বরাবরই পৃথিবীর সকল জীব থেকে শ্রেষ্ঠ তাই পৃথিবীর যত বয়স হচ্ছে, মানুষ ততই তার মেধাশক্তি বিকাশে জীবন কে উন্নত ও আনন্দমুখর করে তুলতে সচেষ্ট হচ্ছে । আজকাল আমাদের সমাজে প্রায় প্রতিটি পরিবারে দু একটি ঘরে সাংসারিক কলহ লেগেই থাকে, তার প্রধানত কারণ পরকীয়া। আর পরকীয়ার বিষয়টি সাংসারিক জীবনে ধরা দেয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি বা দুটি সন্তান লাভের পরে। সে হিসাবে ধরে নেওয়া যায় সংসার জীবনের দশ বা বারো বছর বা তার কিছু পর থেকে শুরু সংসার কলহ। এক্ষেত্রে পরিবার প্রথমেই আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয় স্বামী কে, একবারও প্রশ্ন আসে না কেন এই পরিবর্তন? একটি ছেলে মেয়ে যখন প্রেমে পড়ে তখন দু’জন দু’জন এর প্রতি যত্নশীল আচরণ করে যেমন তার খাওয়া দাওয়া, তার পোশাক পরিচ্ছদ, তার ঘুমানো ঘুম থেকে উঠা ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই মানুষ দুটিই যখন পরস্পরের খুব কাছাকাছি থাকার জন্য আরো বেশি যত্নশীল হওয়ার জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন তারপর সেই সম্পর্ক দিব্যি ১০-১২ বছর প্রেমের মধুরতাতেই কেটে যায়, (এখানে বলি রাখি সব স্বামী স্ত্রী র ক্ষেত্রেই কিন্তু বিষয় টা এক নয়) একজন পুরুষ একটি মেয়ে কে তার বান্ধবী রুপে আজীবন কাছে পেতে চায়, সেটা বিবাহবন্ধনের আগে ও পরেও। একটি মেয়ে যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন বেশিরভাগ মেয়েরা সন্তান লাভের পরে স্বামীর প্রতি তার দায় টা মনে করে নেন ফুরিয়ে গেছে। এখন সন্তান কে লালনপালন করলেই সংসারের দায়িত্বগুলো পালন করা হয়ে গেলো। একটি মেয়ে যখন নিজেকে শুধু সন্তানের মা ভাবতে শুরু করেন, তখন অটোমেটিক নিজের পোশাক পরিচ্ছদ এর প্রতি উদাসীনতা বা স্বামীর মনোযোগ আকর্ষণের বিষয়টি বেমালুম ভুলে বসেন ধীরে ধীরে। কিন্তু সেটা কখনোই একজন পুরুষ তার স্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা করে না। সন্তানের প্রতি যেমন মা হিসাবে তার দায়িত্ব বোধের জায়গা তৈরি হয়, ঠিক তেমনই করে একজন স্বামীর কাছে প্রতিটি বৌ এর প্রধান দায়িত্ব তার স্বামীর মনোযোগ আকর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব সহ মেনে চলা। মানুষ তার সহজাত প্রবৃত্তিতে চলে তাই এ কথা একটি মেয়েকে অবস্যই ভাবতে হবে, একটি পুরুষ একটি নারী যেভাবে দু’জন দু’জন কে প্রত্যাশা করে সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করা, প্রতিটি স্বামী ই চায় তার বৌ যেন তার কাছে বান্ধবী হয়ে ধরা দেয়। একটি মেয়ে যখন বৌ হওয়ার পর সন্তান প্রসবের পর মনে করেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি, অনেক তো হলো আর কতো…? তখনই বাঁধে বিপত্তি সংসার ঝামেলা, স্বামী-স্ত্রী যেন দুজন হয়ে যায় দু’মেরুর বাসিন্দা, তখন তৃতীয় কোন নারী হয়ে ওঠে বান্ধবী একজন পুরুষের। সেদিকে নজর থাকে না ঘরের লক্ষীমন্ত বৌয়ের, সংসার ভেঙে যায় বহু ভুলে ভুলে। সময় কি আসেনি বিষয় টা নিয়ে ভাববার?
প্রতিটি পরিবারে প্রতিটি বৌ হয়ে উঠুক তার স্বামীর বান্ধবী…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।