তোমার জন্মের সময় শাঁখ বাজেনি,
ঘটা করে কেউ উলুধ্বনি দেয়নি,
তোমার আসার পথে কেউ ফুল ছড়ায়নি।
তবু তুমি এসেছিলে!
আমাদের সচকিত প্রার্থনায় ছিল তোমার আগাম আমন্ত্রণ।
যেখানে সমাজ তোমাকে মেনে নিতে পারেনি,
মানুষরূপী তুমিতো দেবতার এক অংশ,
অহরহ তব বিশ্বাস ছিল মানবপ্রেমে।
আর্তের ত্রাতা আর মুমূর্ষুর তুমি জীবন দাতা।
মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণ হাতে করে নিয়ে এসেছিল,
যেথা জীবনরহস্য’ সব শুষে নিল,
মানবসেবাই হল তোমার জীবনের পাথেয়।
অসংখ্য মানুষের কপালে হাত রেখে তুমি,
অনায়াসে বলে দিতে তাদের ভালো-মন্দ।
মৃত্যুপথযাত্রী পেয়েছে প্রাণ, তোমার সঞ্জীবিত সুধায়।
তোমাকে চেনার জন্য, কত বিস্ময় ভাঙে নিরবতার,
তোমাকে হারানোর পর, আজ আমরা অসহায়।
জীবনের প্রতি পলে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি,
নক্ষত্র বলয় ছেদ করে কেনই বা এসেছিলে?
গুটি কয়েক দিন সমাপনের!
না , তুমি তো তা নও।
শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা পেয়েছে যার অপার করুণা;
শরতের পেজা তুলো মেঘ, তাকে হারাতে পারে না।
জানি তুমি ফিরবে না, হয়তোবা কোন দিন
তোমার দেখানো পথ চির চলমান।
অনন্ত আকাশে স্থির তারার মতো, তব লক্ষ্য কর্মভূমির প্রতি।
জানি ফিরবে না তুমি তোমার প্রেরণা হোক আগামীর পথচলা।