প্রেমজ আলিঙ্গনে কবিতা যাপনে আকাশ কর্মকার

তেরঙ্গায় মোড়া প্রেমিক

স্কুলবাস থেকে নামল মেয়েটা;
রোজই নামে, রাজুও রোজ দাঁড়িয়ে থাকে গলির বাঁকে–
আজ প্রথম চোখে চোখ পড়ল।
শুরু গুলো প্রেমের বোধহয় চিরকাল এভাবেই হয়–
রাজু দু-একটা সব গলিতেই থাকে,
হ্যাঁ আমাদের এই নাম-ই শুচিবাই রোগটা আদিমকালের।
যাক্ গে সে সব কথা…
টিনের চালার রাজু আর ফোর্থ ফ্লোরের রাজেশ্বরী,
মিলবে কি তাদের ভাগ্যরেখা-উত্তর জানেন ঈশ্বর-ই!
একঘেয়ে লাগছে বলুন?
গরীব ছেলে-বড়লোক মেয়ে, পাতি বাংলা সিনেমা নব্বইয়ের দশকের–
ধৈর্য্য ধরুন না একটু মশাই,
আরে মশাই ভালোবাসা তো আর পনীর নয়,
আপনি বসাবেন আর তারপর জমে গেলে সাইজ করে কেটে নেবেন;
ভালোবাসা রসগোল্লার মত, গরম রসের ছ্যাঁকা না খেলে তুলতুলে হবে না যে।
অজস্র টালবাহানার তরঙ্গ পেরিয়ে অবশেষে ফুটল গোলাপ;
শুনেছি আতাকামা মরুভূমিও কখনো পরিণত হয় সাজানো ফুলের বাগানে,
এতো আবেগী হৃদয়ের একগুচ্ছ অনুভূতির মিছিল―
ব্যারিকেড ভাঙা ছিল সময়ের অপেক্ষা।

কথা দিয়েছিল, স্বপ্ন বুনেছিল একটা সংসার গড়ার, মনের মতন করে সাজিয়ে তুলবে।
সব ভাবনা ডানা মেলতে পারে না,
আবার কিছু বাস্তব আমরা মেলাতে পারি না।
রাজেশ্বরী সময়ের ঘূর্ণনে আজ সে গৃহিণী-মা
স্মৃতির আঁচে প্রতিনিয়ত পুড়তে থাকা বিদগ্ধ এক আত্মা।
সব রাজুরাই স্বপ্ন দেখে ভালোবাসার;
ভালোবেসে লিখে যাওয়া নাম সর্বদা জলে ধোওয়া যায় না,
কখনো তা শিলালিপিতে খোদাই হয়ে যায়।
ইতিহাস কাউকে ভোলে না, সবার জন্যই তার বইয়ে বরাদ্দ থাকে পাতা।
কিছু ভালোবাসা লেখা হয় লালে,
কেউ লেখে কালোতে;
যারা আঁধারে হারিয়ে গেল আজ,
তারাও শুয়েছিল আলোতে।

দাম্পত্যের মেয়াদ বছর সাতেক, সিঁদুর মোছার এটা দ্বিতীয় বার্ষিকী।
কফিনবন্দী চল্লিশজন রাজু প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ!
তারা ভালোবাসতে শেখেনি,
কথা রাখতে শেখেনি,
তেরঙ্গায় মোড়া দলাপাকানো শরীর শুধু ত্যাগ শিখেছে।
রাজেশ্বরী জানালায় চোখ রাখুক,
কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে,
লাস্ট সিনের কথা একটাই–
“ফিরব খুব তাড়াতাড়ি, আমার প্রেমিকার কাছে, আমার ভ্যালেন্টাইনের কাছে।”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।